পেকুয়ায় জরাজীর্ণ স্লুইসগেট ও অরক্ষিত বেড়িবাঁধ: ঝুঁকিতে কয়েক হাজার মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বদরউদ্দিনপাড়া ভোলারমুখ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৮ নম্বর স্লুইসগেটটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্লুইসগেটের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। ফলে আসন্ন বর্ষা ও বড় জোয়ারে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো বাসিন্দা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ৮ নম্বর স্লুইসগেটের জলকপাট সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং গেটের অগ্রভাগ (নাক) ভেঙে পড়েছে। ফলে কপাটের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে পানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে স্লুইসগেট সংলগ্ন বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পানি বা ভারী বৃষ্টিপাতে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ কামাল “স্লুইসগেট ভেঙে গেছে, জলকপাটও নষ্ট। বড় জোয়ার বা টানা বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। দ্রুত সংস্কার না করলে কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেটটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁধের যে অংশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোও মেরামত করা হয়নি। এর ফলে রাজাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ, বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শত শত একর চিংড়িঘের এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেই পুরো এলাকা আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) জমির উদ্দীন জানান, “আমি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাব। সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হবে।”
অন্যদিকে, বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন,“স্লুইসগেটের দরজা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ওই স্থানে নতুন করে একটি স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
তবে সরকারি দপ্তরের এই দীর্ঘমেয়াদি আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয়রা। সম্ভাব্য দুর্যোগ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে হলেও স্লুইসগেট সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Post a Comment