Previous
Next

সর্বশেষ

Monday, March 16, 2026

থানায় মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা' পেকুয়ার ইউএনওর বদলী রুমাতে

থানায় মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা' পেকুয়ার ইউএনওর বদলী রুমাতে


খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া। 

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুবের বদলী হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলীর আদেশ জারি করা হয়।

গত ৪ মার্চ বিকেলে পেকুয়া থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নির্যাতিত নারীদের এক মাস করে সাজা দেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম মাহবুব। নির্যাতিত নারীদের একজন রেহেনা মোস্তফা রানু প্রথম আলোকে বলেছেন, 'ওইদিন ইউএনও থানায় পৌঁছে পুলিশের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করার বদলে এক মাস করে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। অথচ ইউএনও আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। ভ্রাম্যমাণ আদালতে আমাদের মুখোমুখি করেননি। এমনকি অভিযোগ গঠনের কাগজে আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে।'

থানার ভেতরে মা-মেয়েকে নির্যাতনের পর সমালোচনার ঝড় উঠে সারাদেশে। প্রথম আলোসহ দেশের বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে গত ৭ মার্চ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ১০ মার্চ ও ১২ মার্চ দু' দফায় তিনি পেকুয়া গিয়ে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলেন।


আজ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুবকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বদলী করা হয়েছে। রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফকে পেকুয়ায় পদায়ন করা হয়েছে। 

পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ রেহেনা মোস্তফা রানু নামের এক নারী কাছ থেকে প্রতিবেদন পক্ষে দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। প্রতিবেদন পক্ষে না দেওয়ায় ওই টাকা ফেরত চেয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার বরাবারে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। এতে ক্ষিপ্ত হন পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষসহ থানার পুলিশ সদস্যরা। ৪ মার্চ মেয়ে জুবাইদা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রেহেনা মোস্তফা রানু পেকুয়া থানায় গেলে দুজনকেই বেধড়ক মারধর করা হয়। দুই নারীর মুখে, গলায়, বুকে, বাহুতে, পেটে ও উরুতে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। পরে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুবকে ডেকে নিয়ে থানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দুইজনকে এক মাস করে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি প্রচার হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। একপর্যায়ে ৭ মার্চ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম সাজা বাতিল করে মা-মেয়েকে মামলার দায় থেকে খালাস দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি খন্ড খন্ড ভিডিও ক্লিপ সরবরাহ করা হয় সাংবাদিকদের। সেখানে ওই দুই নারীকে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা গেছে।

এদিকে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। এক আদেশে আদালত পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)  ১৬ মার্চের মধ্যে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন। এছাড়া আদালতের আদেশে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা, থানায় রুজুকৃত জিডি বা মামলা, অভিযুক্তদের আটক করার কারণ এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ১৬ মার্চের মধ্যে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো। ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, গ্রেপ্তার সংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত।

অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।  তদন্তের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাণ্ড অপস) মোহাম্মদ সামীম কবীর আজ সোমবার দুপুরে পুলিশের চকরিয়া সার্কেল অফিসে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য ও জবানবন্দি নেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ নেন।

 

Sunday, March 15, 2026

হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৩-২ গোলের জয়ে সেমিতে মগনামা এলিট ফুটবল একাডেমি

হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৩-২ গোলের জয়ে সেমিতে মগনামা এলিট ফুটবল একাডেমি

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক

গতকাল ১৪ মার্চ প্রবাসী মনিরউল্লাহ মানিকের পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন ও চেরাংঘোনা "প্রবাসী মিনিবার ফুটবল টুর্ণামেন্ট/২৬" কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত হাইভোল্টেজ ফুটবল ম্যাচে জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠক মোরশেদ-এর মগনামা এলিট ফুটবল একাডেমি এবং রেঞ্জ ফুটবল একাদশ মটকা ভাঙ্গা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে।মুহুর্মুহু আক্রমনে দুই টিমই দর্শকের মন জয় করলে ও খেলার মূল সময়ে কোন গোল আদায় করতে পারে নাই।ট্রাইব্রেকারে ৩-২ গোলের ব্যবধানে মগনামা এলিট ফুটবল একাডেমি জয় লাভ করে।

খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে এলিট ফুটবল একাডেমির স্টপার ব্যাক রাফি ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয়।উক্ত কোয়াটার ফাইনাল ম্যাচটি পরিচালনা করেন মগনামা খেলোয়াড় সমিতির একসময়ের দুর্দান্ত স্ট্রাইকার কক্সবাজার রেফারি এসোসিয়েশনের প্রভাবশালী রেফারি হানিফ চৌধুরী। 

উক্ত খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ সেলিম।

আপেল মাহমুদ কে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে বদলি

আপেল মাহমুদ কে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে বদলি


ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ কে বদলি করে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে পদায়ন করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে জারি করা আদেশে বলা হয়, আপেল মাহমুদকে ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টারে পদায়ন করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, এ পদায়ন আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

৭ মার্চ ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ মাইনুল হাসান স্বাক্ষরিত স্মারকে এ আদেশ জারি করা হয়।

Saturday, March 14, 2026

পেকুয়ায় মা-মেয়েকে হেনস্তার অভিযোগ  ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

পেকুয়ায় মা-মেয়েকে হেনস্তার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে



নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মা-মেয়েকে মারধরসহ হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। সরকারি জায়গা থেকে বসত বাড়ি গুড়িয়ে দিতে ইউপি সদস্যের নেতৃত্ব দুর্বৃত্তরা অসহায় বয়োবৃদ্ধ মহিলার বসত বাড়িতে হানা দেয়। এসময় ভাংচুরসহ তান্ডব চালানো হয়। এ কান্ডের প্রতিবাদ করায় মেম্বারসহ তার অনুগত লোকজন বাড়ির মালিক মা ও মেয়েকে লাথি,কিলঘুশিসহ চরম হেনস্তা করে। ১১ মার্চ সকালে  উপজেলার টইটং ইউনিয়নের নতুনপাড়ায় এঘটনা ঘটে।

স্হানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বসতবাড়ির ১২ শতক জায়গা নিয়ে টইটং ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম ও একই ওয়ার্ড়ের নতুনপাড়ার বাসিন্দা মৃত আলী আহমেদের স্ত্রী বদিউজ্জামালের বনিবনা চলছিল। টইটং বাজারের সামন্য পূর্বে এ জায়গাটির স্থিতি অবস্থান। অর্ধেক অংশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) নিয়ন্ত্রনাধীন ও অবিশিষ্ট এরশাদ আলী ওয়াকফের মালিকানাধীন সম্পত্তি এ জায়গা।

আলী আহমেদের স্ত্রী বদিউজ্জামাল ত্রিশ বছর পূর্বে থেকে পতিত থাকা এ জায়গায় বসতবাড়ি তৈরী করে । বসবাস করেছিলেন  পরিবার পরিজন নিয়ে। পাউবো অংশের ৬ শতক জায়গা পন্ডিত বাড়ির গোলাম আজম (ওরফে কায়েস মিয়া) কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে লীজ গ্রহীতা ছিলেন। ওই লীজ প্রাপ্ত অংশের ৬ শতক জায়গা গোলাম আজমের স্ত্রী রাশেদা খানম ও বদিউজ্জামালের মেয়ে কহিনুর আক্তারের মধ্য বিক্রি চুক্তিনামা সম্পাদিতও হয়েছে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পমুলে রাশেদা খানম মরহুম স্বামীর ভোগ দখলীয় এ জায়গা কহিনুর আক্তারের অনুকুলে দখল হস্তান্তর করেন।

অভিযোগ উঠেছে  বসতবাড়ি জবর দখল ও ভিটা থেকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ কু-মানসে ভাড়াটে লোকজনসহ ইউপি সদস্য আবুল কালাম ঘটনার দিন সকালে বদিউজ্জামালের বসতবাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘেরাবেড়া ভাংচুরসহ বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার চেস্টা চালায়। এমনকি ড্রাম ট্রাক দিয়ে কয়েক গাড়ী মাটি ফেলে অসহায় নারীর বসতবাড়ি জরর দখলের প্রচেষ্টা চালায়। এসময় বদিউজ্জামাল ও মেয়ে কহিনুর আক্তার এসবে বাধা দেয়। এরজেরে দু'পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে মেম্বারসহ দখল করতে আসা লোকজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা বদিউজ্জামাল ও মেয়ে কহিনুর আক্তারকে মারধরসহ হেনস্তা করে। খবর পেয়ে স্হানীয় লোকজন সেখানে জড়াে হয়। এ ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এসময় ব্যপক হট্টগোল হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখতে পেয়ে ইউপি সদস্য আবুল কালাম লোকজন নিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হন।

এব্যাপারে বদিউজ্জামাল বলেন আমি খুবই অসহায় স্বামী মারা গেছে বহু আগে। ত্রিশ বছর আগে এ জায়গায় বাড়ি করেছি। আমার একটি মাত্র মেয়ে। মেয়ে আর আমি থাকি। মেয়ে চট্টগ্রামে মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে। ক্ষমতা ও টাকার জোরে আবুল কালাম মেম্বার আমি আমার মেয়েকে এখান থেকে উচ্ছেদ করতে চায়। আমি ও আমার মেয়ে কহিনুরকে মারধর করেছে। ভাংচুরও করেছে। মেয়ে কয়েকদিন থাকবে এ আশায় বাড়িতে আসে। বেইজ্জতির ভয়ে আবারো শহরে চলে গেছে। ইউএনও সাহেবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

এ ব্যপারে টইটং ইউপির ২ নং সদস্য আবুল কালাম বলেন এ জায়গা আমার। আমি বদিউজ্জামাল এখানে থাকতে দিয়েছিলাম। বিগত সরকারের পরিস্থিতি আমার অনুকুলে ছিল না। এখন আমার অনুকুল তাই আমার জায়গা আমি নিয়ে ফেলছি। পেকুয়ার ইএনও মাহবুব আলম মাহবুব বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

পেকুয়ায় ছুরি–হাতুড়ি নিয়ে ‘দুবাই জোন’ দোকানে মাদক কারবারির তাণ্ডব

পেকুয়ায় ছুরি–হাতুড়ি নিয়ে ‘দুবাই জোন’ দোকানে মাদক কারবারির তাণ্ডব


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া উপজেলার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের এসডিসিটি সেন্টারের ‘দুবাই জোন’ নামের একটি কসমেটিকস দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত লোকমান পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাইম্যাখালী এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত লোকমান প্রকাশ্যে ছুরি ও হাতুড়ি নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম ভীতি সৃষ্টি হয়। তার এমন তাণ্ডবে পাশের ব্যবসায়ীরাও ভয়ে এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে সহায়তা করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকমান এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ইয়াবা বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবা বিক্রি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাদেরকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত ‘দুবাই জোন’ দোকানের এক কর্মচারী জানান, অভিযুক্ত লোকমানের এক ভাই তাদের দোকানে চাকরি করেন। ভাইদের পারিবারিক বিরোধের জেরে লোকমান দোকানে ঢুকে চুরি ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমরুল জানান,  ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Friday, March 13, 2026

পেকুয়ায় সহমর্মিতার ঈদ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পেকুয়ায় সহমর্মিতার ঈদ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত


 

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া 

পেকুয়ার রাজাখালীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক বিপ্লব এবং রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচি ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় রাজাখালী ইউনিয়নের ২০টি হেফজখানা ও নূরানী মাদ্রাসার বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ২০ জন শিক্ষকসহ মোট ১২০ জনকে ঈদবস্ত্র প্রদান করা হয়। পরে সংগঠনের সদস্যসহ মোট প্রায় ২৪০ জনের উপস্থিতিতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা আলী জাফর সাদেক বলেন, “রমজান আমাদের সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অবহেলিত এতিম, নূরানী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিপ্লবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ. এম. কামরুল কবির আজাদ হিরো, রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিজবাহ উদ্দীন এবং রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনর রশীদ।


অনুষ্ঠানে রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি কৃষিবিদ ম. ফ. ম. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগ একটি অনন্য নিদর্শন বহন করে। কারণ আমরা সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা—এতিম নূরানী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।


উল্লেখ্য যে, সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় ২০২২ সাল থেকে রাজাখালী ইউনিয়নে এ পর্যন্ত নানা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।