Previous
Next

সর্বশেষ

Saturday, March 14, 2026

পেকুয়ায় মা-মেয়েকে হেনস্তার অভিযোগ  ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

পেকুয়ায় মা-মেয়েকে হেনস্তার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে



নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মা-মেয়েকে মারধরসহ হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। সরকারি জায়গা থেকে বসত বাড়ি গুড়িয়ে দিতে ইউপি সদস্যের নেতৃত্ব দুর্বৃত্তরা অসহায় বয়োবৃদ্ধ মহিলার বসত বাড়িতে হানা দেয়। এসময় ভাংচুরসহ তান্ডব চালানো হয়। এ কান্ডের প্রতিবাদ করায় মেম্বারসহ তার অনুগত লোকজন বাড়ির মালিক মা ও মেয়েকে লাথি,কিলঘুশিসহ চরম হেনস্তা করে। ১১ মার্চ সকালে  উপজেলার টইটং ইউনিয়নের নতুনপাড়ায় এঘটনা ঘটে।

স্হানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বসতবাড়ির ১২ শতক জায়গা নিয়ে টইটং ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম ও একই ওয়ার্ড়ের নতুনপাড়ার বাসিন্দা মৃত আলী আহমেদের স্ত্রী বদিউজ্জামালের বনিবনা চলছিল। টইটং বাজারের সামন্য পূর্বে এ জায়গাটির স্থিতি অবস্থান। অর্ধেক অংশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) নিয়ন্ত্রনাধীন ও অবিশিষ্ট এরশাদ আলী ওয়াকফের মালিকানাধীন সম্পত্তি এ জায়গা।

আলী আহমেদের স্ত্রী বদিউজ্জামাল ত্রিশ বছর পূর্বে থেকে পতিত থাকা এ জায়গায় বসতবাড়ি তৈরী করে । বসবাস করেছিলেন  পরিবার পরিজন নিয়ে। পাউবো অংশের ৬ শতক জায়গা পন্ডিত বাড়ির গোলাম আজম (ওরফে কায়েস মিয়া) কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে লীজ গ্রহীতা ছিলেন। ওই লীজ প্রাপ্ত অংশের ৬ শতক জায়গা গোলাম আজমের স্ত্রী রাশেদা খানম ও বদিউজ্জামালের মেয়ে কহিনুর আক্তারের মধ্য বিক্রি চুক্তিনামা সম্পাদিতও হয়েছে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পমুলে রাশেদা খানম মরহুম স্বামীর ভোগ দখলীয় এ জায়গা কহিনুর আক্তারের অনুকুলে দখল হস্তান্তর করেন।

অভিযোগ উঠেছে  বসতবাড়ি জবর দখল ও ভিটা থেকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ কু-মানসে ভাড়াটে লোকজনসহ ইউপি সদস্য আবুল কালাম ঘটনার দিন সকালে বদিউজ্জামালের বসতবাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘেরাবেড়া ভাংচুরসহ বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার চেস্টা চালায়। এমনকি ড্রাম ট্রাক দিয়ে কয়েক গাড়ী মাটি ফেলে অসহায় নারীর বসতবাড়ি জরর দখলের প্রচেষ্টা চালায়। এসময় বদিউজ্জামাল ও মেয়ে কহিনুর আক্তার এসবে বাধা দেয়। এরজেরে দু'পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে মেম্বারসহ দখল করতে আসা লোকজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা বদিউজ্জামাল ও মেয়ে কহিনুর আক্তারকে মারধরসহ হেনস্তা করে। খবর পেয়ে স্হানীয় লোকজন সেখানে জড়াে হয়। এ ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এসময় ব্যপক হট্টগোল হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখতে পেয়ে ইউপি সদস্য আবুল কালাম লোকজন নিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হন।

এব্যাপারে বদিউজ্জামাল বলেন আমি খুবই অসহায় স্বামী মারা গেছে বহু আগে। ত্রিশ বছর আগে এ জায়গায় বাড়ি করেছি। আমার একটি মাত্র মেয়ে। মেয়ে আর আমি থাকি। মেয়ে চট্টগ্রামে মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে। ক্ষমতা ও টাকার জোরে আবুল কালাম মেম্বার আমি আমার মেয়েকে এখান থেকে উচ্ছেদ করতে চায়। আমি ও আমার মেয়ে কহিনুরকে মারধর করেছে। ভাংচুরও করেছে। মেয়ে কয়েকদিন থাকবে এ আশায় বাড়িতে আসে। বেইজ্জতির ভয়ে আবারো শহরে চলে গেছে। ইউএনও সাহেবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

এ ব্যপারে টইটং ইউপির ২ নং সদস্য আবুল কালাম বলেন এ জায়গা আমার। আমি বদিউজ্জামাল এখানে থাকতে দিয়েছিলাম। বিগত সরকারের পরিস্থিতি আমার অনুকুলে ছিল না। এখন আমার অনুকুল তাই আমার জায়গা আমি নিয়ে ফেলছি। পেকুয়ার ইএনও মাহবুব আলম মাহবুব বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

পেকুয়ায় ছুরি–হাতুড়ি নিয়ে ‘দুবাই জোন’ দোকানে মাদক কারবারির তাণ্ডব

পেকুয়ায় ছুরি–হাতুড়ি নিয়ে ‘দুবাই জোন’ দোকানে মাদক কারবারির তাণ্ডব


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া উপজেলার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের এসডিসিটি সেন্টারের ‘দুবাই জোন’ নামের একটি কসমেটিকস দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত লোকমান পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাইম্যাখালী এলাকার মৃত কবির আহমদের ছেলে বলে জানা গেছে।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত লোকমান প্রকাশ্যে ছুরি ও হাতুড়ি নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালায়। এতে পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম ভীতি সৃষ্টি হয়। তার এমন তাণ্ডবে পাশের ব্যবসায়ীরাও ভয়ে এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে সহায়তা করতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকমান এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ইয়াবা বিক্রির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে ইয়াবা বিক্রি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাদেরকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত ‘দুবাই জোন’ দোকানের এক কর্মচারী জানান, অভিযুক্ত লোকমানের এক ভাই তাদের দোকানে চাকরি করেন। ভাইদের পারিবারিক বিরোধের জেরে লোকমান দোকানে ঢুকে চুরি ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমরুল জানান,  ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Friday, March 13, 2026

পেকুয়ায় সহমর্মিতার ঈদ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পেকুয়ায় সহমর্মিতার ঈদ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত


 

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া 

পেকুয়ার রাজাখালীতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সামাজিক বিপ্লব এবং রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের যৌথ উদ্যোগে রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচি ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় রাজাখালী ইউনিয়নের ২০টি হেফজখানা ও নূরানী মাদ্রাসার বাছাইকৃত ১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ২০ জন শিক্ষকসহ মোট ১২০ জনকে ঈদবস্ত্র প্রদান করা হয়। পরে সংগঠনের সদস্যসহ মোট প্রায় ২৪০ জনের উপস্থিতিতে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদ উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা মাওলানা আলী জাফর সাদেক বলেন, “রমজান আমাদের সহমর্মিতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের অবহেলিত এতিম, নূরানী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এছাড়া বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিপ্লবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচ. এম. কামরুল কবির আজাদ হিরো, রাজাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিজবাহ উদ্দীন এবং রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হারুনর রশীদ।


অনুষ্ঠানে রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি কৃষিবিদ ম. ফ. ম. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই উদ্যোগ একটি অনন্য নিদর্শন বহন করে। কারণ আমরা সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত জায়গা—এতিম নূরানী ও হেফজখানার শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।


উল্লেখ্য যে, সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় ২০২২ সাল থেকে রাজাখালী ইউনিয়নে এ পর্যন্ত নানা স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Thursday, March 12, 2026

পেকুয়ায় বেপরোয়া জইক্যা ডাকাত: ভাইয়ের বাড়িতে গুলিবর্ষণ, জনপদে আতঙ্ক

পেকুয়ায় বেপরোয়া জইক্যা ডাকাত: ভাইয়ের বাড়িতে গুলিবর্ষণ, জনপদে আতঙ্ক


 

​খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়াঃ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই ডজনেরও বেশি মামলার আসামি কুখ্যাত জকির ওরফে জইক্যা ডাকাতের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিজ ভাইয়ের বসতবাড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পেকুয়ার রাজাখালী ও সীমান্তবর্তী টইটং ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

​ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাখালী ইউনিয়নের লালজান পাড়ার মৃত বজল আহমদের ছেলে জইক্যা ডাকাত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। তার ভাই গরু ব্যবসায়ী নবী হোসেন অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত সপ্তাহে জইক্যা ডাকাত তার অপর ভাই মাহাবুব আলমসহ ৪-৫ জন সশস্ত্র সহযোগী নিয়ে নবী হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ করে এবং বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

​সীমান্তবর্তী গ্রামেও আতঙ্ক: গুলিবর্ষণের শব্দে শুধু লালজান পাড়াই নয়, পার্শ্ববর্তী টইটং ইউনিয়নের কাঞ্চন পাড়ার বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কাঞ্চন পাড়ার বাসিন্দা আইয়ুব, জেবর মুল্লুক ও রোকেয়া জানান, গভীর রাতে বিকট শব্দে তাদের ঘরের টিন কেঁপে ওঠে। পরে তারা জানতে পারেন, লালজান পাড়ায় দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে ছোঁড়া গুলির খোসা তাদের বাড়ির ওপর এসে পড়েছে। এরপর থেকে নির্ঘুম রাত কাটছে সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের।

​অভিযোগের পাহাড়: এলাকাবাসীর দাবি, জইক্যা ডাকাতের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। কবির হোসেন ও রাজুসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যা হলেই জইক্যা ও তার সহযোগীরা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাকে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দ্রুত এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

​অভিযুক্তের বক্তব্য: এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জকির ওরফে জইক্যা ডাকাতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

​প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা: বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রাজাখালী ও টইটং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

কক্সবাজার জেলা কারাগারে অনিয়মের অভিযোগ, জেলার দেলোয়ারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

কক্সবাজার জেলা কারাগারে অনিয়মের অভিযোগ, জেলার দেলোয়ারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন



 ফরহাদ উদ্দীন মিজবাহ কক্সবাজার 

বন্দিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, মোবাইল ও মাদক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার জেলা কারাগার-এ। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার দেলোয়ার। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

কারাগারের ভেতরে থাকা কয়েকজন বন্দি এবং জামিনে মুক্ত হওয়া কিছু হাজতির দাবি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে সেখানে একটি ঘুষভিত্তিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কারাগারের কিছু কর্মকর্তা ও কারারক্ষী বন্দিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন এবং এসব কার্যক্রমের পেছনে উচ্চপর্যায়ের প্রভাব রয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজতি জানান, তাকে ডিটেনশন আসামি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় সেলে আটকে রাখা হয়। পরে সাধারণ বন্দিদের মতো সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং তাকে আরও দীর্ঘ সময় সেলে আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্ন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বন্দিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সুবিধা পেতে আলাদা আলাদা অর্থ দিতে হয়। যেমন—ওয়ার্ড পরিবর্তন, সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ, বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি।

কারাগারে মাদক প্রবেশের অভিযোগ

কিছু বন্দির দাবি, কারাগারের ভেতরে গাঁজা, ইয়াবা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য প্রবেশ করছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এমনকি মাদক সেবনের জন্য আলাদা স্থান বা ওয়ার্ডও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুয়া অসুস্থতা দেখিয়ে হাসপাতালের সুবিধা

আরও অভিযোগ রয়েছে, কারা হাসপাতালে কিছু বন্দিকে ভুয়া রোগী দেখিয়ে মাসিক অর্থের বিনিময়ে আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়। এর জন্য মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বন্দি।

মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ

বন্দিদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাবশালী কিছু আসামিকে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

জামিনে মুক্ত হওয়া নুরুল আবছার নামের এক ব্যক্তি বলেন, “কারাগারের ভেতরে টাকা থাকলে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। মাদক থেকে শুরু করে মোবাইল—সবই টাকার বিনিময়ে পাওয়া সম্ভব।” তিনি আরও জানান, ক্যান্টিনের বাইরে আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে এক কেজি রান্না করা গরুর মাংসের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলার দেলোয়ার কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলা কারাগার দেশের অন্যতম বড় কারাগার। এখানে প্রায় তিন হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা বন্দি, মাদক মামলার আসামি এবং বিভিন্ন মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও আছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা দেশের কারা ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

Sunday, March 8, 2026

কয়েকটা গনমাধ্যমে   সংবাদ প্রকাশের পর সেই মা-মেয়ের খালাস

কয়েকটা গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সেই মা-মেয়ের খালাস


 খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া:

পেকুয়া থানায় ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনা বেশকয়েকটা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পেকুয়ার সেই মা-মেয়েকে সাজা দেওয়ার ঘটনাটি আলোচনায় আসে। পরে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত গতকাল শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল আলমের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি শেষে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)-কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

এর আগে গত বুধবার (৪ মার্চ) কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় পৈতৃক বসতভিটা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ দণ্ড প্রদান করেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম।
জানা যায়, চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি জমি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষ। মামলার বাদী জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষে সুপারিশ দেওয়ার আশ্বাসে এসআই পল্লব তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ নেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পরও তিনি বিবাদীপক্ষের অনুকূলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে জুবাইদা জন্নাত ও তাঁর মা রেহেনা মোস্তফা রানু টাকা ফেরত চাইতে পেকুয়া থানায় গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মা-মেয়েকে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে এনে থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এই প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এরপর গত ৫ মার্চ “থানায় ইউএনওর অভিযান, বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা” শিরোনামে দৈনিক মেহেদী পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুক সহ নানান স্যোশাল মিড়িয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ সুস্থ  তদন্ত ও দায়ীদের জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
পরবর্তীতে শনিবার (৮ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষেব মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।