কক্সবাজারে নিখোঁজের পর শিশুর লাশ উদ্ধার: বলাৎকারের পর হত্যার অভিযোগ
চকরিয়া প্রতিনিধিঃ
ভোররাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা (খাল) থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম ওয়াহিদুল ইসলাম (৭),সে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকার (ধর্ষণ) করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে শিশু ওয়াহিদ নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সারারাত তার কোনো সন্ধান পায়নি পরিবার।
পরদিন আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় ফজুমিয়াজিরচর ৪নং ওয়ার্ডের একটি ছোট খালে ওয়াহিদের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশ ও পরিবারকে খবর দেয় স্থানীয়রা।
পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) হারুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
আজ ১৬ই জুন সকালে খালের ভেতর শিশু ওয়াহিদুল ইসলামের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে উৎসুক হাজার হাজার জনতা লাশটি দেখতে ভিড় জমায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা বা পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নয়। নির্দয়ভাবে পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর শিশুটিকে পানিতে ডুবিয়ে মারা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন "আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই স্পষ্ট হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা শত্রুতা আছে কিনা, তাও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"
পুলিশ জানায়, রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Post a Comment