পেকুয়ায় তিনদিনে ৩৬০ টাকা ভাড়া খরচ করে ২০০ টাকার ত্রাণ পেলেন বন্যার্তরা
জয়নাল আবেদীন,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা ত্রাণ তহবিলের বরাদ্দ থেকে বন্যাদুর্গত এক হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
তবে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাত্র ২০০ টাকার ত্রাণ পেতে তাদের তিনবার ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়েছে। এতে যাতায়াতেই খরচ হয়েছে ৩৬০ টাকা। পাশাপাশি তিন দিন কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল ৩০০ গ্রাম মুড়ি, ২৫০ গ্রাম চিড়া, ৪০০ গ্রাম চিনি, তিনটি ওরস্যালাইন, একটি পানির বোতল, এক প্যাকেট বিস্কুট এবং চারটি ছোট মোমবাতি। স্থানীয়দের দাবি, এসব খাদ্যসামগ্রীর বাজারমূল্য আনুমানিক ২০০ টাকার মতো।
ভুক্তভোগীরা জানান, ত্রাণ সংগ্রহের জন্য তাদের তিন দফায় ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলা হয়। প্রতিবার যাতায়াতে প্রায় ১২০ টাকা করে ভাড়া ব্যয় হয়েছে। ফলে ২০০ টাকার ত্রাণ পেতে তাদের যাতায়াতেই খরচ হয়েছে ৩৬০ টাকা। এছাড়া দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ তিন দিন কাজ করতে না পারায় প্রতিদিনের প্রায় ৮০০ টাকা করে আয় থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে, অনেক দরিদ্র ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও কোনো ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, "বন্যায় আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কষ্ট করে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছি। যাতায়াতেই ৩৬০ টাকা খরচ হয়েছে। এরপরও যে ত্রাণ পেয়েছি, তার মূল্য এর চেয়েও কম। অনেক মানুষ আবার বারবার গিয়েও খালি হাতে ফিরেছেন। এতে আমাদের সঙ্গে তামাশা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।"
৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেবী আক্তার, রুজিনা আক্তারসহ একাধিক উপকারভোগী বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না করেই ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ফলে অনেক অসহায় পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে ত্রাণ বিতরণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল আমিন।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা আমাদের বরাদ্দ অনুযায়ী ত্রাণ দিয়েছি। শুকনো খাবারের ত্রাণ এভাবেই দেওয়া হয়। এখন এক হাজার টাকার ত্রাণ চারজনকে দিয়েছি। আগামীতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। পানিবন্দি ছয় হাজার মানুষের জন্য ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিন হাজার মানুষকে দেওয়া হয়েছে, বাকি তিন হাজার মানুষকেও ধাপে ধাপে ত্রাণ দেওয়া হবে।"
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment