ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
সরকারি কর্মকর্তাকে স্যার বা ম্যাডাম না বলে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এই অদ্ভূত ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাজারের এক ব্যবসায়ী একটি দাপ্তরিক কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে প্রবেশ করেন। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি ইউএনও-কে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর দাবি, তিনি ভুলবশত ‘আপা’ বলে ফেলেছিলেন এবং সাথে সাথেই ক্ষমা চান। কিন্তু ইউএনও তার কোনো কথা না শুনে একে ‘সরকারি কর্মকর্তার অবমাননা’ ও ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বলেন, "আমি একজন সাধারণ মানুষ, অত নিয়মকানুন বুঝি না। সম্মানের সাথেই 'আপা' ডেকেছিলাম। কিন্তু এই একটা শব্দের জন্য আমাকে এতো বড় শাস্তি পেতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। ধার-দেনা করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।"
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা মুখর হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের 'জনগণের সেবক' হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অনেকেই এই শাস্তিকে 'ক্ষমতার অপব্যবহার' ও 'অতিরঞ্জিত' বলে মন্তব্য করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির একজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ইউএনও কোনো ভিনগ্রহের মানুষ নন। আপা বা ভাই ডাকা আমাদের সামাজিক সংস্কৃতির অংশ। এই সাধারণ কারণে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে এত বড় অঙ্কের জরিমানা করা সম্পূর্ণ অন্যায়।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরিমানার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র ‘আপা’ ডাকার জন্য এই জরিমানা করা হয়নি।
ইউএনও-র দাবি, ওই ব্যবসায়ী সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করছিলেন এবং কার্যালয়ের ভেতরে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। তাই আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই জরিমানা করা হয়েছে।
তবে ঘটনার সময় উপস্থিত অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা ইউএনও-র এই দাবি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment