জন দুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণ করার আহবান-শাফায়েত আজিজ রাজু
রেজাউল করিম রেজা:
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার—এই দুই জেলার প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘ-দিনের লালিত স্বপ্ন একটি সংযোগ সেতু। মাত্র ৬০ থেকে ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু বদলে দিতে পারে দুই অঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র। সম্প্রতি পেকুয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু’র একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই সেতু নির্মাণের দাবিটি নতুন করে জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার সর্ব-দক্ষিণের উপজেলা বাঁশখালীর ‘ছনুয়া ইউনিয়ন’ এবং কক্সবাজার জেলার উত্তর-পশ্চিমের উপজেলা পেকুয়ার ‘রাজাখালী ইউনিয়ন’।
এই দুই ইউনিয়নের সীমান্তস্থল তথা পেকুয়ার রাজাখালী ‘ভাঙার মুখ’ থেকে বাঁশখালীর ছনুয়া ‘ছেলবন বেড়িবাঁধ’ পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র ৬০ থেকে ৭০ ফুট। কিন্তু সামান্য এই দূরত্বের মধ্যে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় দুই পারের মানুষকে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভৌগোলিক এই দূরত্বের কারণে দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে একটি কৃত্রিম দেয়াল তৈরি হয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই সেতুটি নির্মিত হলে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য পেকুয়া বা রাজাখালীর উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াত সহজ হবে, যা অবহেলিত এই জনপদে শিক্ষা বিস্তারে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া উপকূলীয় এই দুই অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ মৎস্য ও লবণ চাষের সাথে জড়িত। সেতুটি হলে চাষি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা সহজেই পণ্য পারাপার করতে পারবেন।
এতে পরিবহন খরচ এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমে আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি দারুণভাবে গতিশীল হবে। যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ার মাধ্যমে দুই জেলার প্রান্তিক মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, একটি ৬০/৭০ ফুটের সেতু হয়তো সরকারের জন্য খুব বড় কোনো প্রকল্প নয়, কিন্তু এটি নির্মিত হলে দুই জেলার প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য চিরতরে বদলে যাবে। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ জানান, তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই স্বপ্ন পূরণে এখন প্রধান ভরসা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ। যেহেতু পেকুয়া-চকরিয়া তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা এবং সংলগ্ন বাঁশখালীর সাথেও তাঁর গভীর সংযোগ রয়েছে, তাই দুই উপজেলার মানুষ এই স্বপ্নের সেতুটির দ্রুত বাস্তবায়নে তাঁর জরুরি ও আন্তরিক সুদৃষ্টি কামনা করছেন। লাখো মানুষের প্রাণের এই দাবিটি বাস্তবায়িত হলে তা কেবল দুটি ইউনিয়নকে যুক্ত করবে না, বরং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে এক নতুন এবং ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করবে।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment