Wednesday, April 22, 2026

জ্বালানী তেলের জন্য হাহাকার লবণ চাষী

         পেকুয়ায় শংকা এবং ঝুঁকি নিয়েও সাদাস্বর্ণ উৎপাদনে  কারিগররা
 

খোরশেদুল ইসলাম:

পেকুয়া উপজেলার অজানা শংকা ও চরম ঝুঁকি নিয়েও সাদা স্বর্ণ উৎপাদনে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা, উজানটিয়া,রাজাখালী ও পেকুয়া সদরের লবণ চাষীরা। চলিত বছরের লক্ষমাত্রা অর্জনে ঘুম নেই তাদের চোখে । লবণ উৎপাদন করে এ অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রাখে বিধায় লবণচাষীদেরকে সাদা স্বর্ণের কারিগর এবং লবণকে সাদা স্বর্ণ উপাধি দিয়েছে সচেতন মহলেরা। কিন্তু এ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জ্বালানী তেলের জন্য  হাহাকার বিরাজ তাদের মাঝে। উপজেলার ৪ ইউনিয়নে প্রায় ১৭  হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়, চাষীরা লক্ষমাত্রা অর্জনে কাজ করলেও শংকা ও ঝুৃঁকি তাদের পিছু ছাড়ছে না।

 মাঠপর্যায়ে দালাল চক্রের দৌরাত্ম এবং মিল মালিকদের মূল্য কারসাজিতে ঋনের বোঝা চেপেছে মাতার উপর। এর মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ভর করছে জ্বালানী তেলের। সরকার নির্ধারিত প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ ও মূল্য নির্ধারণ করলেও ব্যবসায়ী সংকটের অজুহাতে দাম নিচ্ছে লিটার প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা। এরপরেও সরবরাহ দিচ্ছে না প্রয়োজনীয় তেল এ চরম ঝু্ঁকির মধ্যেও অজানা শংকায় শংকিত লবণ চাষীরা।

মঙ্গলবার (২১এপ্রিল) সরেজমিনে মগনামাসহ অন্যান্য ইউনিয়নের লবণচাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রক্তঝরা শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পায় না তারা। দালালের দৌরাত্মে এবং মিল মালিকদের সিন্ডিকেট কারসাজিতে লাভের পরিবর্তে লোকসান ঘাড়ের উপর চেপে বসে। দালালেরা লবণ পরিমাপের সময় ৪০ কেজিতে মণের পরিবর্তে নেন ৬০/৬৫ কেজি। দালালের সাথে পাল্লা দিয়ে মিল মালিকেরা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দাম কমিয়ে দেন মণ প্রতি ৮০/৯০ টাকা। বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে জ্বালানী তেলের সংকট ও অগ্রহণযোগ্য তেলের দাম বৃদ্ধি। পেকুয়ায় নিয়োজিত তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্টানগুলো ইচ্ছামত তেলের দাম ও তেল সরবরাহ দিচ্ছে। সময়মত তেল না পাওয়ার দরুণ ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

লবণ চাষীরা জানান, আমন ও বোরো চাষে কৃষকেরা সরকার থেকে নানাবিধ সুবিধা পেলেও লবণ চাষীরা হয় বৈষম্যের শিকার। কৃষকেরা যেমন খাদ্য উৎপাদন করে তেমনি আমরাও খাদ্যের সম্পূরক খাদ্য উৎপাদন করি, কিন্তু আমাদের উৎপাদনের কাজে সরকারের কোন দফতর সহায়তা কিংবা তদারকিও করে না। বিগত সরকার কক্সবাজারে লবণ বোর্ড করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ দেখছিনা। চাষীরা দাবী করেন দ্রুত লবণ বোর্ড স্থাপনসহ লবণ চাষের মৌষুম শুরুর সাথে সাথে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ব্যাংক থেকে ঋন প্রদান কাজ সহজতর করার।

মগনামার লবণ চাষী মনছুর আলম জানান,বিগত বছরে দালাল ও মিল মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতায় ঋনের বোঝা কোন রকমে টেনে আসলেও এ মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে পতিত হয়েছি জ্বালানী তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি কারণে। অন্যদিকে পেকুয়ার প্রশাসন তেল ব্যবসায়ীদের উপর কোন প্রকার নজরদারী বা কর্তৃত্ব রাখে না। কক্সবাজার জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পেকুয়া মগনামা সোনালী বাজার ৪৫ বি পোল্ডার স্লুইস গেইটি গত ৪/৫ বছর যাবত ঝরাজীর্ণ হওয়ার পরও ঠেকসই সংষ্কার না হওয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারের পানির স্রোতে ধ্বসে পড়েছে। ফলে জোয়ারের পানিতে বহু কষ্টে উৎপাদিতে লবণসহ বসতবাড়ি তলিয়ে গেল। এ অবস্তা চলতে থাকলে এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকার কারণে বউ বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়বে নেতিবাচক প্রভাব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাদের বারবার তাগাদা দেয়ার পরও তারা কোন প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আমরা আপনাদের মাধ্যমে স্লুইস গেইট টি স্থায়ী সংষ্কারে বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয় ও মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও লবণ ব্যবসায়ী এম, কামাল উদ্দিন জানান, কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করি এ লবণ উৎপাদনে। মগনামার সিংহভাগ লবণ মাঠ জমিদারদের  জমিদারদের কাছে অন্ততঃ এক বছর আগে অগ্রিম টাকা দিয়ে ইজারা নিতে হয়। অগ্রিম টাকা দিয়ে জমি নেয়ার পর চাষের উৎপাদিত লবণের স্তুপ প্রবল জোয়ারের পানির তোড়ে স্লুইস গেইট ধ্বসে লবণ ও বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতিতে পতিত হয়েছি আমরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ দ্রুত সময়ে স্লুুইস গেইট নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক  জানান,মগনামার ৪এ বি পোল্ডার স্লুইস গেইট মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ধ্বসে পড়েছে। এটি সংষ্কার করার বিকল্প কোন উপায় নেই বলে জানান কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী। নতুনভাবে স্লুুইস গেইট করার ব্যাপারে ডিসি মহোদয়কে অবহিত করেছি।

কক্সবাজার জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)'র নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, পেকুয়া উপজেলা মগনামার ৪৫ বি পোল্ডার স্লুইস গেইটটি ধ্বসে পড়ার খবর পেয়েছি।জরুরী প্রকল্পের আওতায় সংষ্কারে ১ মাস আগে ফয়াসল আহমদ চৌধুরী নামে একজন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছি। নিয়োগকৃত ঠিকাদার আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে না পারলে বিকল্প প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। দ্রুত সময়ে নতুনভাবে নির্মাণের উদ্যোগের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।


শেয়ার করুন