পেকুয়ায় দুস্থদের জন্য তুরস্কের পাঠানো কোরবানির মাংস বিতরণ নিয়ে 'ভোটের রাজনীতি'র অভিযোগ
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো কোরবানির মাংস বিতরণ নিয়ে চরম অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত গরিব ও দুস্থদের বাদ দিয়ে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার আগামী ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের ভোটব্যাংক ভারী করতে এই মাংস নিজস্ব দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বিতরণ করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে তুরস্ক সরকার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য ৫টি কোরবানির গরু বরাদ্দ দেয়। নিয়ম অনুযায়ী এই মাংস এলাকার প্রকৃত অভাবী ও দুস্থদের মাঝে বণ্টন করার কথা ছিল।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরাদ্দের মাংস প্রকৃত গরিবদের না দিয়ে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোশাররফ হোসেন প্রভাব খাটিয়ে এই মাংস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে রাজাখালী এয়ার আলী খাঁন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনি তাঁর নিজস্ব লোক ও দলীয় কর্মীদের ডেকে এনে এই মাংস বিলি করেন। ২৫০ জন ব্যক্তির প্রত্যেককে ২ কেজি করে এই মাংস দেওয়া হয়।
স্থানীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে, মাওলানা মোশাররফ হোসেন আগামী রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবং নিজের ভোট ভাগিয়ে নিতেই তিনি তুরস্ক সরকারের দেওয়া এই অনুদানকে ‘মাংস রাজনীতি’র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
অনুদান বিতরণে এমন জালিয়াতি ও দলীয়করণের ঘটনায় রাজাখালী ইউনিয়নের সাধারণ ও প্রকৃত দুস্থ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করেছেন।

Post a Comment