চকরিয়ায় ভিকটিম উদ্ধারের নামে পুলিশের ‘তাণ্ডব’ ভিডিও ভাইরাল'যুবক চমেক হাসপাতালে
বিশেষ প্রতিবেদন:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ভিকটিম উদ্ধারের নামে এক নারীকে লাঠিপেটা ও এক যুবককে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরকানুল ইসলামের (আরাকান) নেতৃত্বে এই ‘বেপরোয়া তাণ্ডব’ চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার এক তরুণী (২০) প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকার নুরুল আমিনের (২৪) সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে আসেন। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের সম্মতিতে দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে মেয়ে পক্ষের কয়েকজন এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে চকরিয়া থানায় একটি নিখোঁজ বা অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল তরুণীকে উদ্ধারের জন্য ঘটনাস্থলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তরুণী স্বেচ্ছায় এসেছেন দাবি করে পুলিশের সঙ্গে যেতে অস্বীকৃতি জানালে প্রথম দফায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়।
পরবর্তীতে এসআই মো. আরকানুল ইসলামের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, এসআই আরকানসহ তিন পুলিশ সদস্য মিলে ওই তরুণীকে লাঠিপেটা করেন।
পুলিশের লাঠিচার্জের সময় স্থানীয় নুরু মাঝির ছেলে নুরুল আমিন গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পুলিশের এমন আচরণের পর উপস্থিত স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করলে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গুরুতর আহত নুরুল আমিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের লাঠিচার্জের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে এ বিষয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

Post a Comment