খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামার সোনালী বাজার সংলগ্ন স্লুইসগেইটের ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাবাবুদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণে ফের ধসে গিয়ে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেল হাজারেরও অধিক লবণ মাঠ এবং এটির দ্রুত সংষ্কার না হলে উজানটিয়া সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে উপজেলা পেকুয়ার।
ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন মগনামা ইউনিয়নের মটকাভামঙ্গা,অঁইরপাড়া,কুমপাড়া, দরদরিয়াঘোনা,চেরাংঘোনা,উজানটিয়ার পেকুয়ার চর,ঘোষাল পাড়া ও ষাটদুনিয়া পাড়ার প্রায় ৪ হাজারের অধিক পরিবার এবং বোরো ধান ও লবণমাঠ। ফলে আর্থিক স্থবিরতায় পড়বে পেকুয়া উপজেলার সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ীরা। কারণ এসময়ে কৃষি ও লবণ চাষের উপর নির্ভরশীল উপকুলীয় এ উপজেলা। কৃষিকাজ কিংবা লবণ চাষে উৎপাদন কম হলেই ব্যাপক প্রভাব পড়ে এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন যাত্রায়। তাই এ অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে শংকা জানিয়েছেন সাধারণ কৃষক ও লবণচাষীরা।
সরেজমিন গেলে স্থানীয় চাষীরা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের গাফেলতিতে ৪১ নং স্লুইসগেইটটি আজ জোয়ারের পানিতে ফের ধসে গিয়ে পানিতে তলিয়ে গেল লবণ মাঠের লবণ। তলিয়ে গেল মগনামার মঠকাভাঙ্গা,চেরাংঘোনা ও দরদরী ঘোনার লবণ মাঠ ও বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। বিগত কয়েক বছর ধরে বড় ধরণের কোন ভাঙ্গণ হলে জরুরী সংষ্কারের নামে অর্থ লুঠে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দ্রুত সংষ্কার করা না হলে অচিরেই আরো ধসে পড়বে এ স্লুইস গেইট, ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে পেকুয়া উপজেলার সাথে উজানটিয়া এবং মগনামার দক্ষিণ ও পূর্ব অংশের জনসাধারণের। এতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের নাগাল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের। পতিত হবে নানাবিধ সমস্যায় গত বছর স্থানীয় সরকার অধিদফতরের বরাদ্ধে নামে মাত্র সংষ্কার করা হয়েছিল।
মাস খানিক আগে ভরা তিঁতিতে জোয়ারের পানি বেশি হওয়ায় ৪১নং স্লুইস গেইটের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ করায় স্লুইস গেইটে ছোট্র আকারের কয়েকটি ছিদ্র হয়, এ ছিদ্রটির সংষ্কারের উদ্যোগ তাৎক্ষণিক নেয়া হলে এত বড় ভাঙ্গন হত না। ছিদ্র হওয়ার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ঠিকাদার ফয়সল চৌধুরীকে জানানো হলেও তারা কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় আজ এ ঝুঁকিতে পতিত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় লবণ চাষী কামাল উদ্দিন মেম্বার জানান, প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি ও স্লুইসগেইট ইজারাদারদের কাম-খেয়ালীপনায় আজকে আমরা বড় ধরণের আর্থিক ঝুঁকিতে পতিত হয়েছি। আল্লাহ না করুক যদি স্লুইট গেইটের বাকি অংশগুলো যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে কোটি টাকার লোকসানে পড়ব।
মৎস্যচাষী জয়নাল আবেদীন জানান,ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় আজ আমি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পড়তে যাচ্ছি। অথচ গত ১ মাস আগে সংষ্কারের দায়ীত্ব পায় মগনামা ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি ফয়সাল আহমদ চৌধুরী। তিনি দ্রুত এ স্লুইস গেইট সংষ্কার কাজ সম্পন্ন না করায় আজকে আমাদের মৎস্য ঘের ও হাজারের অধিক লবণ মাঠের লবণ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেল এ ক্ষতিটা কে পুঁষিয়ে দেবে,
আজকের এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফয়সল চৌধুরীর বলেন, একমাস আগে সংস্কার কাজের দায়িত্ব পেয়েছি জোয়ারের পানি ও বালুর সংকট থাকায় কাজ শেষ করতে পারি নাই। আশা করি পানি চলাচল স্বাভাবিক এবং বালু পাওয়া গেলে আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক শরীফ বলেন,স্লইসগেইট ধ্বসে পড়ার সংবাদ পেয়েছি। আমি সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিসি মহোদয়কে অবগত করব।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার প্রধান প্রকৌশলী অপু দেব এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ৪১ নং স্লুইস গেইট ধসে পড়ার সংবাদ পেয়ে লোক পাঠিয়েছি। গত বছরও ধসে পড়েছিল বিগত এক মাস আগে আমরা সংষ্কারের জন্য ঠিকাদার ফয়সল চৌধুরীকে নিয়োগ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যথা সময়ে কাজ শেষ না করায় এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে ঠিকাদারের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেব।






