প্রেমিক-প্রেমিকাকে মারধর: চকরিয়া থানার এসআই আরকান প্রত্যাহার
নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়াঃ
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীতে এক প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিকে আটকে রেখে বেদড়ক মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরকানুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তাকে চকরিয়া থানা থেকে সরিয়ে কক্সবাজার পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ৩০মে শনিবার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় এক প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি দেখা করতে গেলে স্থানীয় কিছু বখাটে ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে চকরিয়া থানার এসআই আরকানুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজেই ওই যুবক ও যুবতীকে নির্মমভাবে লাঠিপেটা ও শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্যাতনের শিকার ওই জুটিকে মারধরের একটি ভিডিওচিত্র পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এসআই আরকানের নির্মম আচরণ দেখে সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন অবমাননাকর ও অমানবিক ভূমিকা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভিডিওটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ মেলায় তাৎক্ষণিক ভাবে এসআই আরকানকে চকরিয়া থানা থেকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার পুলিশ বিভাগ নেবে না। এসআই আরকানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

Post a Comment