খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া।
কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলার স্কাউটিং অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউটসের স্কাউট শাখার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা "সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড" অর্জন করেছেন পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের দুই মেধাবী সদস্য—স্কাউট মোহাম্মদ ইমন ও স্কাউট ইফতেখার হোসেন জাওয়াদ। এ অর্জনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পেকুয়া উপজেলা এবং পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপ জাতীয় পর্যায়ে এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি লাভের গৌরব অর্জন করল।
গতকাল (৩ মার্চ) বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক উনু চিং স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৫ সালের জন্য সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে চূড়ান্তভাবে ইমন ও জাওয়াদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা স্থানীয় স্কাউটিং অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন স্কাউটদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। একজন স্কাউটকে ধাপে ধাপে নির্ধারিত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বিভিন্ন দক্ষতায় পারদর্শিতা প্রমাণ করতে হয়।
এই অ্যাওয়ার্ডের জন্য স্কাউটদের যেসব যোগ্যতা অর্জন বাধ্যতামূলক—স্কাউটিংয়ের মৌলিক ও অগ্রসর ধাপ সম্পন্ন করা, পুষ্টি স্যালাইন প্রস্তুত ও প্রয়োগে দক্ষতা, শিশু স্বাস্থ্য ও টিকাদান বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান, জাতীয় পর্যায়ের লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ে বাস্তব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তার প্রামাণ্য উপস্থাপনাও মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ইমন ও জাওয়াদ দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়া এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তাদের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্য সচেতনতা ক্যাম্পেইন পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা কার্যক্রম, দুর্যোগকালীন স্বেচ্ছাসেবামূলক সহায়তা, দরিদ্র মানুষের মাঝে সহায়তা বিতরণ, টিকাদান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমে সহযোগিতা।
স্থানীয় ভাবে তাদের এই ধারাবাহিক কাজই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ার পথ সুগম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও গ্রুপ স্কাউট লিডার স্কাউটার মো. আরকান বলেন,
“এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের অর্জন। ইমন ও জাওয়াদের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পেকুয়ার স্কাউটরাও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব দেখাতে সক্ষম। আমরা কোয়ালিটি স্কাউটিং জোরদার করতে কাজ করছি।”
গ্রুপের সভাপতি স্কাউটার জাকের আহমদ বলেন,
“সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড একজন স্কাউটের জীবনে বড় মাইলফলক। এই অর্জন নতুন প্রজন্মের স্কাউটদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
উপজেলা স্কাউটসের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, এই সাফল্যের ফলে পেকুয়ায় স্কাউটিং কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্কাউটিং কেবল সহ-শিক্ষা কার্যক্রম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক ও নেতৃত্ব বিকাশের প্ল্যাটফর্ম। স্কাউটরা এখানে শেখে আত্মনির্ভরশীলতা, দলগত নেতৃত্ব, দুর্যোগে মানবিক সহায়তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ সচেতনতা।
স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েলের বিখ্যাত উক্তি—“পৃথিবীকে যেমন পেয়েছ, তার চেয়ে সুন্দর করে রেখে যেতে চেষ্টা কর”—ইমন ও জাওয়াদের অর্জনের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় স্কাউট মোহাম্মদ ইমন ও স্কাউট ইফতেখার হোসেন জাওয়াদ বলেন, “এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি দায়িত্বও। আমরা আমাদের অর্জন উৎসর্গ করছি আমাদের অভিভাবক ও স্কাউট লিডারদের প্রতি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই এবং সমাজসেবামূলক কাজ আরও বিস্তৃত করতে চাই।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পেকুয়া উপজেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই অর্জন স্থানীয় তরুণদের মধ্যে স্কাউটিং নিয়ে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক স্কাউটিং সম্প্রসারণ এবং মানসম্মত প্রশিক্ষণ জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জন সম্ভব। পেকুয়ার স্কাউটিং অঙ্গনে এই সাফল্য এখন গর্বের পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশারও সূচনা করেছে।





