পেকুয়ার মগনামায় ৬ সড়ক উন্নয়নে অনুমোদন, উদ্যোগী ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী
খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া (কক্সবাজার):
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় মগনামা ইউনিয়নের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব এবং ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা সচল করতে সড়কগুলোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ চৌধুরী। প্রস্তাবিত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উন্নয়ন প্রস্তাবের আওতায় রয়েছে কাটাফাঁড়ি-সোনালী বাজার সড়কের ইফাদ সাইক্লোন সেন্টার অংশ, মগনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাইন্যাঘোনা আবাসন সড়ক, সোনালী বাজার থেকে অইরপাড়া হয়ে মঠকাভাঙ্গা জামে মসজিদ সড়ক, কাজীর মার্কেট থেকে কাটাফাঁড়ি সড়ক, মগনামা পশ্চিমকূল সড়ক এবং মগনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাইন্যাঘোনা আবাসন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক।
চেয়ারম্যানের দাখিল করা আবেদনপত্রে সড়কগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও সংশ্লিষ্ট আইডি নম্বর উল্লেখ করে আরসিসি (RCC) ঢালাই, এইচবিবি (HBB) সোলিং অথবা উপযুক্ত নির্মাণপদ্ধতিতে উন্নয়নের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, গর্ত ও অসমতল অংশ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও কাদার কারণে এসব পথে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দৈনন্দিন যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিশেষ করে মগনামা উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাইন্যাঘোনা আবাসন সড়কটি শিক্ষার্থী ও আবাসন এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সোনালী বাজার ও কাজীর মার্কেটসংলগ্ন সড়কগুলো স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে ভূমিকা রাখে। মঠকাভাঙ্গা জামে মসজিদসংলগ্ন সড়কটি স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
সড়কগুলো উন্নত হলে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ চৌধুরী সড়কগুলোর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও সংশ্লিষ্ট আইডি নম্বর উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উন্নয়নের প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে সড়কগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জনদুর্ভোগ কমানো, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকট অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করা হলে সড়কগুলো দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এলাকার মানুষ টেকসই যোগাযোগসুবিধা পাবেন।
এই বিষয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, “মগনামার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। সড়কগুলো উন্নত হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন, মোট ব্যয়, বরাদ্দের পরিমাণ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং কাজ শুরুর সময়সূচি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় আবেদনগুলোর অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত সড়কগুলোর উন্নয়ন বাস্তবে রূপ নিলে মগনামা ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
