পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী সংগঠনের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ, আটক ৩
কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার দুপুরে পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার ৫৯০ টাকা ও ৪০টি ফরম জব্দ করা হয়েছে। পরে তাদের পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—নিজেকে পেকুয়া উপজেলা প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া বেলাল উদ্দিন এবং তাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত আরাফাত হোসেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে পূর্ব গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে মাইকিং শুনে পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু প্রতিবন্ধী জড়ো হন। সেখানে নিজেদের প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতা পরিচয় দেওয়া কয়েকজন তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা জানান।
উপস্থিত প্রতিবন্ধীদের অভিযোগ, প্রথমে ফরম পূরণের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা এবং সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য আরও ৪০০ টাকা নেওয়া হয়। এভাবে ৪৪ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যান।
সংগঠনের সদস্য হতে আসা সিদরাতুল মুনতাহা, এমরান ও তাসফিয়া বলেন, শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করে প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়। শনিবার সকালে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হলে তারা সেখানে যান।
তাদের ভাষ্য, সেখানে প্রথমে ১০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে এবং সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য আরও ৪০০ টাকা দিতে বলা হয়। রবিবার সকালে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে সদস্যদের ‘পাশবই’ দেওয়ার কথাও বলা হয়।
তবে সংগঠনটি বৈধ কি না কিংবা তাদের মাধ্যমে সরকারি কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিলেন না বলে জানান।
ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু টাকা ও ৪০টি ফরম জব্দ করে তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ফরমগুলোতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা টাকা আদায়কারীদের কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি ফরম পূরণকারীদেরও স্বাক্ষর নেই। সেখানে শুধু নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা রয়েছে।
সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, মাইকিং করে বিপুলসংখ্যক প্রতিবন্ধীকে জড়ো করা হলেও বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কিংবা ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হয়নি। তিনি সংশ্লিষ্টদের পরদিন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় দেখে তিনি বিষয়টি জানতে চান। তখন তাকে বলা হয়, প্রতিবন্ধীদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তার সন্দেহ হয়। এরপর তিনি গ্রাম পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পেকুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ তৈয়ব আলী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
এদিকে প্রতিবন্ধীদের পূরণ করা ফরম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফরমে ‘পেকুয়া উপজেলা প্রতিবন্ধী সংগঠন’ লেখা রয়েছে। তবে সেখানে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কোনো স্বাক্ষর নেই। ফরম পূরণকারীদের স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিন নিজেকে পেকুয়া উপজেলা প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি দাবি করে বলেন, “আমরা একদিন আগে মাইকিং করেছি। যারা সরকারি সুবিধাভোগী প্রতিবন্ধী, তাদের আসতে বলেছি। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের জন্যই টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকাগুলো কৃষি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে।”
তিনি বলেন, যারা সংগঠনের সদস্য হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে ফরমসহ মোট ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘পাশবই’ দেওয়া হবে।
তবে সংগঠনের কার্যক্রমের জন্য কোনো ধরনের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন নুরুল আমিন। তাঁর দাবি, সংগঠনের ৪৫ জনের নিবন্ধন রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংগঠনটির বৈধতা, টাকা আদায়ের অনুমোদন এবং প্রতিবন্ধীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
This theme has been developed by OURISLABD.