শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেনের
কক্সবাজারের পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট কামাল হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টায় পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোয়াখালী এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় দলমত-নির্বিশেষে সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে প্রয়াত এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোয়াখালী এলাকার মরহুম আলহাজ কবির আহমদ সওদাগরের জ্যেষ্ঠ সন্তান।
শিক্ষা, রাজনীতি ও আইন অঙ্গনে পরিচিত মুখ
অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন ছিলেন পেকুয়ার শিক্ষা, রাজনীতি ও আইন অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করা এই গুণী ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অঞ্চলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষক ছিলেন।
তিনি পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে সততা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—উভয় সরকারের আমলে দুবার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন বলে জানা গেছে।
রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও আইনজীবী হিসেবে তাঁর অবদান তাঁকে পেকুয়ার মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে।
জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি
জানাজায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন আহমদ, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ, প্রয়াতের ছেলে অ্যাডভোকেট রাশেদুল কবির, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মঞ্জু, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সালাহ উদ্দিন এমএ ও মুজিবুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। জানাজা শেষে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
This theme has been developed by OURISLABD.
