পেকুয়ায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মামলা করায় হুমকি; ঘরছাড়া পরিবার
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভনে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। মামলা দায়েরের পর প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে পরিবারটি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী টইটং ইউনিয়নের হিরাবুনিয়া পাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামলার আসামিরা হলেন টইটংয়ের নাপিতখালী এলাকার আবদু ছবুরের ছেলে তোফায়েল এবং হিরাবুনিয়া পাড়ার ছাবের আহমদের ছেলে খোরশেদ।
ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তোফায়েলের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তোফায়েলের সঙ্গে থাকা অপর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
পরদিন ১৬ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে পেকুয়ার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে তাঁকে পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে ইউনুছ, ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম, আবদু জব্বার ও আবদু খালেকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকে অভিযুক্ত তোফায়েলকে বাদ দিয়ে সিএনজিচালক খোরশেদকে কেন্দ্র করে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব ও ক্ষতিপূরণ বাবদ এক লাখ টাকা দেওয়ার আলোচনা হয়। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা এ প্রস্তাবে রাজি হননি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ভুক্তভোগীর মামা মোহাম্মদ হোসেন অভিযোগ করেন, উদ্ধারের আগে তাঁরা খোরশেদের সিএনজিতে করে শিক্ষার্থীকে খুঁজেছেন। তখন খোরশেদ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাননি। পরে তাঁরা জানতে পারেন, তোফায়েল ওই শিক্ষার্থীকে খোরশেদের সিএনজিতে করে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খোরশেদ আগে থেকেই বিষয়টি জানতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মোহাম্মদ হোসেন আরও অভিযোগ করেন, সালিশের নামে ভুক্তভোগী, তাঁর মা ও তাঁর কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। স্ট্যাম্পগুলোও ফেরত দেওয়া হয়নি। আদালতে মামলা করার পর তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত খোরশেদের বাবা ছাবের আহমদও স্থানীয় বৈঠক ও অর্থ লেনদেনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলের সিএনজি আটকে রেখে সেটি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু বৈঠকের পর পরিবারটিকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা তা গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি। টাকা ফেরত চাইলে ইউনুছ টালবাহানা করছেন বলেও অভিযোগ তাঁর।
এ বিষয়ে ইউনুছ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সমাজের লোকজন বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি খোরশেদের পক্ষ থেকে টাকা জমা রেখেছিলেন। ভুক্তভোগীর পরিবার ওই টাকা গ্রহণ করেনি এবং টাকা এখনো তাঁর কাছে রয়েছে।
অন্যদিকে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম বলেন, খোরশেদ তাঁর বাড়ির পাশের বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে তিনি বৈঠকে গিয়েছিলেন। সেখানে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও মেয়ের পরিবার রাজি না হওয়ায় আর বৈঠক হয়নি। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মামলা করার পর প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ায় তাঁরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাওয়ায় তাঁরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে প্রতিবেদক ভুক্তভোগীর বাড়িতে গেলেও ঘরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পরিবারটি এলাকা ছেড়ে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো ধরনের তথ্য নেই। ওসি স্যার ছুটিতে আছেন। তাঁর কাছে তথ্য আছে কি না, তা আমি জানি না।”
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
This theme has been developed by OURISLABD.