মগনামায় ৪৬৫ জেলের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ
পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে ৪৬৫ জন জেলের মাঝে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে সরকারি চাল বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়নের ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলোর মাঝে দুই মাসের বরাদ্দ হিসেবে জনপ্রতি ৬০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ চৌধুরী উপকারভোগীদের হাতে চাল তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ,সাংবাদিক খোরশেদ, ইউপি সদস্যগন এবং ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
জেলে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের খাদ্যচাহিদা পূরণে সরকারের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য এ ধরনের সহায়তা সাময়িক আর্থিক চাপ মোকাবিলায়ও সহায়ক হতে পারে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ চৌধুরী বলেন, “সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। জেলে, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
অন্যদিকে, ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় দুই মাসের বরাদ্দ হিসেবে ৬০ কেজি করে চাল পাওয়ায় উপকারভোগী পরিবারগুলোর খাদ্যচাহিদা পূরণেও সহায়তা হবে। সরকারি এসব সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, “মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এ সময়ে জেলেরা যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকার খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জেলেদের মধ্যে বরাদ্দ করা চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের মাধ্যমে তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইলিশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।”
উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সরকারের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে মাছ ধরতে না পারায় জেলেদের নিয়মিত আয়ে প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি খাদ্যসহায়তা জেলে পরিবারগুলোর খাদ্যসংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
This theme has been developed by OURISLABD.
