শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

বাঁশখালীতে SRB পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; উদ্ধার টেকনাফে, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৬, জব্দ গাড়ি-ভুয়া পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডকাফ

বাঁশখালী প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজার থেকে SRB সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। অপহরণের চার দিন পর কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো রঙের SRB লেখা কটি, দুটি ভুয়া SRB পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে ব্যবসায়ী হাসানের মালিকানাধীন মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করেন। তাঁদের পরনে ছিল কালো পোশাকের ওপর SRB লেখা কটি, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক।

তাঁরা নিজেদের SRB সদস্য পরিচয় দিয়ে দোকানের ক্যাশে বসা ব্যবসায়ী হাসানের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ সময় তাঁর যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে পরিচয় যাচাই করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একপর্যায়ে ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তাঁর দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরান। পরে তাঁকে টানাহেঁচড়া করে দোকান থেকে বের করে একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাঁকে কক্সবাজারের দিকে নেওয়া হয়।

অপহরণের পর ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. হোছাইমের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ডিবির ওসি মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে ডিবি ও বাঁশখালী থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানাধীন বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী হাসানকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সুমন মুন্সি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা; চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য,মিজানুর রহমান কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনু উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা, মো. আব্বাস উদ্দিন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা, মো. ছলিম ওরফে সেলিম রোহিঙ্গা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা,দেলোয়ার হোসেন কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি অতীতে উখিয়া এলাকায় SRB-তে কর্মরত থাকার সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তিনি ভুয়া SRB পরিচয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন তাঁকে তথ্য সরবরাহ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সুমন ও তাঁর সহযোগীরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুমন মুন্সি ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে আব্বাস উদ্দিন: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনু অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে, ছলিম ওরফে সেলিম অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

তবে এসব মামলা থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

এ ঘটনায় অপহরণের পেছনে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না, ভুয়া SRB পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের আরও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না এবং মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনায় কারা জড়িত ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%