শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

মহেশখালী চ্যানেলে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালী সাগর চ্যানেলে প্রশাসনিক শর্ত লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। শক্তিশালী ড্রেজার ব্যবহার করে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার অভিযোগে স্থানীয় পরিবেশ, বসতবাড়ি ও মহেশখালীর পাহাড়ি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে প্রায় ১০ থেকে ১২টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক বাধা ও আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাতারবাড়ী বন্দরের ব্যবহার্য সড়ক নির্মাণের জন্য ‘টোকিও-এমআইএল-জেভি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত এলাকার বাইরে গিয়ে মহেশখালী চ্যানেল, আদিনাথ পাহাড় এলাকার মোহনা এবং বাঁকখালী খালের মোহনা থেকেও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

বালু উত্তোলনের নির্ধারিত কারিগরি বিধি ও সময়সীমা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় ১৮ ইঞ্চি কাটার ব্যবহারের নির্দেশনা থাকার কথা উল্লেখ করে অভিযোগকারীরা বলছেন, সেখানে ১২ ইঞ্চি কাটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার পর বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকার বিধান উপেক্ষা করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

এভাবে অনুমোদিত এলাকার বাইরে বালু উত্তোলন এবং নির্ধারিত নিয়ম অমান্য করা হয়ে থাকলে তা পরিবেশ ও স্থানীয় জনবসতির জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. জয়নাল আবেদীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ভারুয়াখালী মোহনা, বাঁকখালী মোহনা ও মহেশখালী চ্যানেলে চার মাসের জন্য ড্রেজিং ও বালু উত্তোলন স্থগিতের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদেশ কার্যকর করতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ওই আদেশের ওপর দুই সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের আদেশের সুনির্দিষ্ট পরিধি ও বর্তমান কার্যকারিতা সংশ্লিষ্ট আদেশপত্র থেকে যাচাই করা জরুরি।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে স্থানীয় নদী-চ্যানেলের স্বাভাবিক প্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নদীভাঙন, বসতবাড়ি বিলীন হওয়া এবং আদিনাথ পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অনুমোদিত এলাকা, বালু উত্তোলনের কারিগরি পদ্ধতি, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জনস্বার্থে মহেশখালী চ্যানেল ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ মোহনাগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%