শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

পেকুয়ায় লাইসেন্স বিহীন ৬ করাতকল জব্দ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ অভিযান, নিয়মিত নজরদারির দাবি স্থানীয়দের

‎খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া :

‎কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়টি করাতকল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চড়ারপাড়া স্টেশন ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকায় পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‎অভিযানে নেতৃত্ব দেন পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম। এ সময় বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান এবং পেকুয়া থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে চড়ারপাড়া স্টেশন এলাকা থেকে তিনটি এবং টইটং ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকা থেকে আরও তিনটি করাতকল জব্দ করা হয়। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

‎করাতকলের কার্যক্রম আইন ও বিধিবিধানের আওতায় আনা এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, করাতকল পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

‎পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া করাতকল পরিচালনা আইনসম্মত নয়। আইন ও বিধিবিধান বাস্তবায়ন এবং লাইসেন্সবিহীন করাতকলের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

‎বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান বলেন, “বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং করাতকলের কার্যক্রম বিধিবিধানের আওতায় রাখার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বনজ সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

‎অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, শুধু এককালীন অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; লাইসেন্সবিহীন করাতকলের কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারিও প্রয়োজন।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের বলেন,“লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। নিয়ম মেনে করাতকল পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও যেন কেউ অবৈধভাবে করাতকল পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি থাকা দরকার।”

‎আরেক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “বনজ সম্পদ রক্ষা ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আমরা আশা করি। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

‎সচেতন মহলের মতে, লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান বনজ সম্পদ সংরক্ষণ ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জব্দ করা করাতকলগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ, লাইসেন্স যাচাই এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

‎পেকুয়ায় ছয়টি করাতকল জব্দের এ অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে লাইসেন্সবিহীন করাতকলের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।


‎

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%