টইটংয়ে চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী আলোচনায়, সরগরম নির্বাচনী মাঠ
খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। চায়ের আড্ডা, স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম। এতে ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে ইউনিয়নের নির্বাচনী মাঠ।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার নাম চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী ঘরানার কয়েকজন পরিচিত মুখকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন—সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জেডএম মোসলেম উদ্দিন, টইটং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার জয়নাল আবেদীন, সাবেক ইউপি সদস্য শাহাদাত হোছাইন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. নুরুল কবির, জামায়াত নেতা মাওলানা হাসান শরীফ, মাস্টার ইউসুফ, মাস্টার মো. জাহেদ উল্লাহ ও অ্যাডভোকেট এনামুল হক।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, জেডএম মোসলেম উদ্দিন, মাওলানা হাসান শরীফ ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহাদাত হোছাইনের নাম বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, মামলাজনিত কারণে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুপস্থিত। তিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এরপরও স্থানীয়দের আলোচনায় তার নাম রয়েছে।
অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মাস্টার জয়নাল আবেদীনকেও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের মধ্যেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. নুরুল কবির, উপজেলা বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাসান শরীফ, মাস্টার ইউসুফ ও অ্যাডভোকেট এনামুল হকের নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে।
তাদের অনুসারীদের দাবি, সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর প্রত্যেকেরই এলাকায় নিজস্ব ব্যক্তি ইমেজ ও সামাজিক পরিচিতি রয়েছে। তবে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কেউই নিশ্চিত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না।
এখন পর্যন্ত আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনী মাঠে থাকছেন, তা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
দলীয় সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমীকরণ, স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং শেষ পর্যন্ত কে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন পাচ্ছেন—এসব বিষয়ের ওপরই নির্ভর করবে টইটংয়ের নির্বাচনী মাঠের চূড়ান্ত চিত্র।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে পরিকল্পনা ভোটের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ। কার পক্ষে কারা মাঠে নামছেন, কোন প্রার্থীর সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পর্ক কেমন—এসব বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই পরিষ্কার হবে কারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকছেন এবং কার পক্ষে গড়ে উঠছে শক্তিশালী জনসমর্থন। দলীয় মনোনয়ন ও সমর্থনের পাশাপাশি স্বতন্ত্রভাবে কেউ মাঠে নামবেন কি না, সেটিও নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
সব মিলিয়ে টইটং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে এরই মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনকার আলোচনা ও সম্ভাব্য প্রার্থিতার বাইরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলীয় অবস্থান, প্রার্থীদের মাঠের প্রস্তুতি এবং সর্বোপরি ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টইটং ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী, তা নির্ধারণ করবেন ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররাই।
This theme has been developed by OURISLABD.