তফসিলের আগেই সরগরম পেকুয়ার মগনামা, চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ
রেজাউল করিম রেজা, পেকুয়া
তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। এরই মধ্যে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। গ্রামের চায়ের দোকান, বাজারের আড্ডা কিংবা মসজিদের বারান্দা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, এবার মগনামার চেয়ারম্যানের চেয়ারে কে বসছেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তারা।
মগনামা ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী। গত পাঁচ বছরে ইউনিয়নে বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের হিসাব তুলে ধরে তিনি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তার পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন সাবেক দুই চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ও শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছেন।
বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতেও চলছে জোর তৎপরতা। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফয়সাল চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম এবং যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম।
এ ছাড়া গত নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা অধ্যক্ষ নুরুল আমিনও এবার বেশ সক্রিয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে তিনি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
অন্যদিকে মগনামা ইউনিয়ন আওয়ামী-লীগের সাধারণ সম্পাদক সোলতান মোহাম্মদ রিপন চৌধুরীকে নিয়েও স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজুর ছোট ভাই রিয়াজুল করিম তরুণ ও নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় এসেছেন।
দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি এবার প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিতে চান সাধারণ ভোটাররা।
মাঝিরপাড়ার ব্যবসায়ী আবদুর রহিম বলেন, “ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কার এবং বর্ষার স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে যিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, আমরা তাকেই ভোট দিতে চাই।”
স্থানীয় স্কুলশিক্ষিকা রেহেনা বেগমের মতে, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এখন গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
স্থানীয় বিভিন্ন মহলের দাবি, নতুন চেয়ারম্যান যিনিই হোন, তাঁকে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে সংঘাত-সহিংসতা বন্ধ, মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি রোধ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মগনামা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড ঘুরে তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং উন্নয়নমুখী জনপ্রতিনিধি চান।
তরুণদের অনেকেই মনে করেন, চেয়ারম্যানকে শুধু নির্বাচনের সময় নয়, পুরো মেয়াদেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে হবে। দলীয় বিভাজনের বাইরে গিয়ে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করার সক্ষমতাই হওয়া উচিত প্রার্থীর অন্যতম যোগ্যতা।
তফসিল ঘোষণা ও চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর মগনামার নির্বাচনী মাঠ আরও উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই—যিনিই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন, তিনি যেন কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি না হয়ে পুরো মগনামা ইউনিয়নের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
This theme has been developed by OURISLABD.