মগনামায় বিএনপির প্রস্তুতি সভায় বাক-বিতণ্ডা, উত্তেজনা
খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে বিএনপির প্রস্তুতি সভায় প্রত্যাশিত লোকসমাগম না হওয়াকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাদশাকে মারধরের জন্য একটি পক্ষ তেড়ে আসার অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা হাতাহাতির ঘটনা অস্বীকার করে বিষয়টিকে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বিএনপির ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় প্রত্যাশিত সংখ্যায় নেতাকর্মী উপস্থিত না হওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাদশাসহ কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল কি না এবং লোকসমাগম কম হওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফয়সাল চৌধুরীর সঙ্গে মো. বাদশাসহ কয়েকজনের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সভাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ফয়সাল চৌধুরীর অনুসারীরা যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশার দিকে তেড়ে আসেন বলেও দলীয় একটি সূত্র দাবি করেছে।
তবে হাতাহাতির অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বাদশা বলেন, “প্রস্তুতি সভার কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আহ্বায়কের লোকজন কিছুটা উত্তেজিত হলেও পরে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।”
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফয়সাল চৌধুরীও হাতাহাতির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সামান্য একটি বিষয় নিয়ে বাদশার সঙ্গে হাবিবের একটু কথার বাড়াবাড়ি হয়েছে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেছে।”
উপজেলা তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুল করিম বলেন, “মিটিংয়ে নেতাকর্মীদের দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছে মাত্র। বিষয়টি একেবারেই সামান্য। পরে তা সমাধান হয়ে গেছে।”
মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, “এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
তবে মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা দাবি করে বলেন, “১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মগনামা ইউনিয়ন বিএনপি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। সেখানে নেতাকর্মীর উপস্থিতি বলতে গেলে ছিল না। এ বিষয়ে আহ্বায়ক ফয়সাল চৌধুরীর কাছে ব্যাখ্যা দাবি করা হলে তাঁর লোকজন যুগ্ম আহ্বায়ক বাদশাকে মারতে আসেন। পরে অবশ্য বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।”
মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব জাকের হোসেন বলেন, “কর্মীদের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে তা সমাধান হয়ে গেছে।”
দলীয় নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সভায় সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি সভায় নেতাকর্মীদের কম উপস্থিতি এবং তা নিয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
This theme has been developed by OURISLABD.