চকরিয়ায় সাদিয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্য, তিন দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
জয়নাল আবেদীন, স্টাফ রিপোর্টার:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাদিয়া জান্নাত (তরুণী) নামের এক নারীর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার তিন দিন পার হলেও থানায় মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চকরিয়া সরকারি হাইস্কুলের পশ্চিম পাশে নিরিবিলি আবাসিক এলাকার একটি বাসার বাথরুম থেকে সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ কারণে শুরু থেকেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন তাঁরা।
সাদিয়া জান্নাত পেকুয়া পৌরসভার আব্দুল হামিদ সিকদার পাড়া এলাকার মুহাম্মদ তারেকের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকার মৃত নুরুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সোহেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাদিয়ার ওপর নির্যাতন করা হতো। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার জন্য স্বামী সোহেল শ্বশুরবাড়ির কাছে তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় সাদিয়ার ওপর নির্যাতন বাড়ে বলে অভিযোগ তাঁদের। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করে বাথরুমে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।
নিহতের খালা তফুরা বেগম বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে সোহেল তিন লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে না পারায় সাদিয়াকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে হত্যা করেছেন বলে আমাদের ধারণা।’
নিহতের চাচা কামরুল হাসান অভিযোগ করেন, সাদিয়ার স্বামী সোহেল, শাশুড়ি সাজেদা বেগম ও ননদ সুমি আক্তার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, সাদিয়াকে হত্যার পর বাথরুমে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
কামরুল হাসান বলেন, ‘আমরা কোনো প্রতিহিংসা চাই না। সাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসুক। কেউ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক।’
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন পার হলেও থানায় তাঁদের মামলা নেওয়া হয়নি। দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সাদিয়ার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘আমরা আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি।’ মামলা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর বিষয়টি সম্পর্কে বলা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।’ মামলা হবে কি না জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের ফলাফলের ওপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ হবে।
This theme has been developed by OURISLABD.