পুরোনোদের পাশে নতুন মুখ, মগনামায় চেয়ারম্যান পদ ঘিরে সরগরম রাজনীতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ ঘিরে আগাম নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি একাধিক নতুন ও তরুণ মুখের নামও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, কেউ সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই মগনামায় জমে উঠেছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান পদে শেষ পর্যন্ত কে মাঠে থাকবেন, তা নির্ভর করবে দলীয় সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক সক্ষমতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থার ওপর। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
তবে তফসিল ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় থাকা কাউকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
মগনামার বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী আবারও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, দায়িত্ব পালনকালে মগনামার উন্নয়ন ও নাগরিকসেবায় কাজ করার চেষ্টা করেছেন। জনগণের সমর্থন পেলে চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।
অন্যদিকে সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুল এনাম বিএ-এর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সাবেক চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমও মাঠে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁর মূল শক্তি। সুযোগ পেলে অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ শেষ করে মগনামাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়নে পরিণত করতে চান তিনি।
এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরীও চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি বলেন, মগনামার মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশা কাছ থেকে দেখেছেন। সুযোগ পেলে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন, নাগরিকসেবা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করতে চান।
এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ প্রার্থীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা সামনে রেখে কয়েকজন তরুণ ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
তৌহিদুল আলম জানিয়েছেন, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ত্যাগ বিবেচনায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন তিনি।
সাঈদ খান শান্ত বলেন, দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও রাজনৈতিক ত্যাগ থেকেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান। মনোনয়ন পেলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের চেষ্টা এবং মগনামাকে আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় রয়েছে তাঁর।
সোলতান মোহাম্মদ রিপন চৌধুরী নিজেকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই তিনি প্রার্থী হতে চান। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আধুনিক নাগরিকসেবা ও তরুণদের কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আদিত আমিন চৌধুরী মনে করেন, মগনামার মানুষ পরিবর্তন ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছেন। সুযোগ পেলে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চান তিনি।
শরীফ নেওয়াজও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জনগণের মতামত ও সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে সুন্দর ও বাসযোগ্য মগনামা গড়ে তুলতে চান।
চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় থাকা অধিকাংশ প্রার্থীর বক্তব্যেই দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফয়সল চৌধুরী, মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, বলেন, মগনামার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত ও নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এগোতে চান তিনি।
নুরুল ইসলাম, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, মনোনয়ন পেলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করবেন।
অন্যদিকে সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল আজিম বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয়। যোগ্য, ত্যাগী ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পেলে তৃণমূল ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করবে।
নুরুল ইসলাম, মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক, তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে মগনামাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উন্নয়ন এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার কথা জানান তিনি।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, নাগরিকসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়গুলোই তাদের বক্তব্যে গুরুত্ব পাচ্ছে।
খোরশেদুল ইসলাম বিএ বলেন, মগনামার মানুষের সমস্যা ও উন্নয়ন-চাহিদা সম্পর্কে তিনি অবগত। সুযোগ পেলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুষম উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রাজুর ছোট ভাই, রিয়াজুল করিম চৌধুরী এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিকসেবায় কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। জনগণ ও দল সুযোগ দিলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
নুরুল আমিন, শিক্ষক ও উদ্যোক্তা, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সুযোগ পেলে শিক্ষা, নাগরিকসেবা, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
মগনামার সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় যেমন সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ও নতুন প্রজন্মের একাধিক মুখ। ফলে এবারের নির্বাচনী আলোচনায় একদিকে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা—দুই ধরনের সমীকরণই সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, শুধু দলীয় পরিচয় নয়; ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক অবস্থান, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্বাচনী মাঠে সাংগঠনিক সক্ষমতাও প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মগনামায় চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত কতজন নির্বাচনী মাঠে থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া, প্রার্থীদের পারস্পরিক সমঝোতা কিংবা নির্বাচনী জোট—এসব বিষয়ও প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।
তফসিল ঘোষণার পর প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ আরও জোরদার হলে বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি নতুন প্রার্থীদের সাংগঠনিক শক্তিরও পরীক্ষা হবে। একই সঙ্গে কার পক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন বেশি—সেটিও ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে পারে।
সব মিলিয়ে মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে এবার পুরোনো অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সম্ভাব্য লড়াই ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। এখন সবার নজর দলীয় মনোনয়ন কার ভাগ্যে জোটে, কারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকেন এবং সাধারণ ভোটারদের সমর্থনের পাল্লা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ভারী হয়।
This theme has been developed by OURISLABD.