শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

পেকুয়ায় উপকূলীয় রক্ষা-কবচ প্যারাবন নিধনের অভিযোগ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

উজানটিয়া চ্যানেলে কয়েক চেইনজুড়ে প্যারাবন কাটার অভিযোগ; বনবিভাগ বলছে, মাটি কাটা বন্ধ ও স্কেভেটর সরানোর নির্দেশ। 

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় প্যারাবন কেটে স্কেভেটর দিয়ে মাটি তুলে মৎস্যঘের তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া করিমদাদ মিয়া ঘাটসংলগ্ন উজানটিয়া চ্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় প্যারাবন কেটে পরিষ্কার করার পর গতকাল থেকে প্রায় ১০ একর জায়গাজুড়ে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী হিসেবে পরিচিত প্যারাবনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানটিয়া ইউনিয়নের নয়া পাড়ার মৃত করম আলীর ছেলে শফি ও মিয়া পাড়ার মকবুল বহদ্দার ওই এলাকায় প্যারাবন কাটার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪ শেইনজুড়ে প্যারাবন কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর সেখানে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে প্যারাবন কাটা ও স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ চললেও শুরুতে বনবিভাগের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখা যায়নি। ফলে সংরক্ষিত বা উপকূলীয় বনাঞ্চলের এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তবে বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বনবিভাগ।

মগনামা বিট কর্মকর্তা হোসেন তওফিক বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই বিট কার্যালয় থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। মাটি কাটা বন্ধ এবং স্কেভেটর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে শফি বলেন, প্যারাবন আগে থেকেই কাটা ছিল। তিনি মৎস্যঘের তৈরির জন্য স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে বাঁধ দিয়েছেন বলে জানান।

অপর অভিযুক্ত মফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “শফি নামে একজন এ ঘটনায় জড়িত। তিনিই প্যারাবন কেটে বাঁধ তৈরি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শিমুল বলেন, জায়গাটি তারা ‘মাথাকিলা’ হিসেবে দেখাশোনা করে থাকেন। তাদের কাছ থেকে শফি ও মফিজ বর্গা নিয়েছেন। তবে তাদের অগোচরে প্যারাবন কেটে বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর বনবিভাগকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান শিমুল।

উপকূলীয় অঞ্চলে প্যারাবন ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব কমানো, উপকূলীয় ভূমি রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমন এলাকায় নির্বিচারে প্যারাবন কেটে মৎস্যঘের তৈরির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি তদন্ত করে প্যারাবন কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবশিষ্ট প্যারাবন রক্ষায় বনবিভাগের নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হোক।


This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%