চকরিয়ায় গৃহবধূ সাদিয়া হত্যা: স্বামী সোহেলের এক দিনের রিমান্ড
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গৃহবধূ সাদিয়া জান্নাত (২২) এর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার স্বামী মো. সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আইয়ুব জানান, রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত আসামি সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকরিয়া থানা পুলিশের কাছে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
নিহত সাদিয়ার পিতা পেকুয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মেহেরনামা আব্দুল হামিদ সিকদার পাড়ার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের এজাহারের ভিত্তিতে গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ চকরিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশোধনী ২০২৫-এর যৌতুকের জন্য হত্যার ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলাটির নম্বর ৪।
এজাহারে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন—মো. সোহেল (৩৮), পিতা মৃত নবী হোসেন, সাং পুরুত্যাখালী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, কোনাখালী ইউনিয়ন; মোছা. সাজেদা বেগম (৫৫) এবং মোছা. আকলিমা (২৫), উভয়ের ঠিকানা মাতামুহুরী, কক্সবাজার।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গত ২৫ আগস্ট পুলিশ খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার দিনই সোহেলকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সাদিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করেন। পরিবারের দাবি, সাদিয়াকে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হতো। শেষ গোসলের সময় তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, সাদিয়াকে হত্যা করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের পিতা মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, মামা মাতামুহুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান এনাম ও চাচা কামরুল এসব অভিযোগ করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, সাদিয়ার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। শিশুটি বর্তমানে নানীর কাছে রয়েছে এবং মাকে হারিয়ে কান্নাকাটি করছে।
তবে সাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
This theme has been developed by OURISLABD.