কক্সবাজারে স্থানীয় নির্বাচন: ৬২ ইউপিতে ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত তিন ধাপে ভোট আয়োজনের
কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জেলার ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আপাতত ৬২টিকে নির্বাচন উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার জেলায় ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ জানান, কক্সবাজার জেলায় সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২১ সালের ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর তিন দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার নির্বাচন সামনে রেখে জেলার ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য হালনাগাদ করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি এবং রামু উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে দুটি ইউনিয়ন প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি করপোরেশনের অধিভুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসন মৌজা তালিকা প্রকাশ করেছে। এ কারণে সদর ও রামুর সংশ্লিষ্ট পাঁচটি ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল নাও হতে পারে।
এ ছাড়া পেকুয়া উপজেলার একটি এবং চকরিয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্বাচন থেকে আপাতত বাদ পড়তে পারে। সব মিলিয়ে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, টেকনাফ, উখিয়া ও রামু উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন বিভাজনের জন্য আবেদন করেছে। তবে ইউনিয়ন বিভাজন সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো নির্বাচন কমিশন থেকে জেলা নির্বাচন অফিসে আসেনি। তাই আপাতত ৬২টি ইউনিয়ন পরিষদকে নির্বাচন উপযোগী ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন, জনপ্রতিনিধিদের প্রথম সভার তারিখ, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ, নির্বাচন আয়োজনের আইনগত সময়সীমা, ইউনিয়নের সীমানা, ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস এবং মামলা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সাল জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্র যাচাই-বাছাই ও হালনাগাদের সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের হালনাগাদ তথ্য, বুথের সংখ্যা এবং কেন্দ্রগুলো নির্বাচন উপযোগী কি না—এসব তথ্য যাচাই করে কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। এ বিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তথ্য যাচাই করছে নির্বাচন কমিশন।
তবে কোন কোন ইউনিয়নে নির্বাচন হবে, কত ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং চূড়ান্ত তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
This theme has been developed by OURISLABD.