পেকুয়ায় ৪ ফার্মেসিকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা, অভিযান থামিয়ে ‘বিশেষ ভোজ’ নিয়ে প্রশ্ন
ফার্মেসিতে অভিযান না চালিয়ে হাসপাতালে কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন, উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।
খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চারটি ফার্মেসিকে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তবে অভিযানের একপর্যায়ে একটি ফার্মেসি পরিদর্শন না করে কর্মকর্তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে গিয়ে ‘বিশেষ ভোজে’ অংশ নিয়েছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও অভিযানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, অভিযান চলাকালে ‘অভিযান শেষ’ জানিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আনিসুল ইসলামকে বিদায় জানান কক্সবাজার ওষুধ প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক কাজী মোহাম্মদ ফরহাদ ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তারা। পরে তাঁরা সেখান থেকে ফিরে না গিয়ে পেকুয়া ফোরকান হাসপাতাল অ্যান্ড ফার্মেসিতে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা না করে কর্মকর্তারা সেখানে আপ্যায়নে অংশ নেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলে কর্মকর্তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার ওষুধ প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক কাজী মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, “আমরা চৌমুহনীতে অভিযান শেষ করে ওনাদের সঙ্গে মিটিং করার জন্য এসেছি।পাঁচ-সাতজনকে নিয়ে তো উপজেলা হলরুমে মিটিং করা যায় না, তাই এখানে এসেছি।”
তবে সেখানে আপ্যায়নে অংশ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
এদিকে, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উদ।স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ওষুধ মানুষের জীবন-মরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ফলে ওষুধের দোকানে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযানের সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের আতিথেয়তা হয়ে থাকলে তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
This theme has been developed by OURISLABD.