রাতের আঁধারে পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ কেটে ১৫টি পাইপ স্থাপন, চরম ঝুঁকিতে লোকালয়
বিশেষ প্রতিনিধি, পেকুয়া (কক্সবাজার)।
কক্সবাজারের পেকুয়ায় রাতের আঁধারে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে ১৫টি পাইপ (নাসি) বসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে করে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি তীব্র প্রাণপ্রকৃতি ও পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মগনামা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎঘোনা এলাকায় রাতের অন্ধকারে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে বেড়িবাঁধ কেটে ২ ফুট ব্যাসের প্রায় ১৫টি পাইপ বা নাসি বসানোর কাজ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা তীব্র প্রতিবাদ জানান।
এ সময় অভিযুক্তরা দাবি করেন, সেখানে আগে থেকেই নাসি ছিল এবং নতুন করে স্থাপনের জন্য তারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেছেন। এমনকি নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে তারা ‘বান্দরবান পাউবো’ (পানি উন্নয়ন বোর্ড) থেকে অনুমতি পাওয়ারও দাবি করেন।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এভাবে বেড়িবাঁধ কাটার অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেকোনো এলাকায় নতুন স্লুইসগেট বা পানি নিষ্কাশন পথ তৈরি করতে হলে কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) এবং পাউবোর মহাপরিকল্পনার অনুমোদন লাগে। তাছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বৈধ কাজ দিনের আলোতে এবং পাউবোর প্রকৌশলীদের তদারকিতে সম্পন্ন হওয়ার কথা। পূর্বানুমোদন ছাড়া কেবল দরখাস্ত জমা দেওয়ার অজুহাতে রাতের আঁধারে বাঁধ কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা প্রাচীর এভাবে যত্রতত্র কেটে ফেলার কারণে বাঁধের ভেতর অনিয়ন্ত্রিতভাবে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে। এতে শরৎঘোনা ও আশপাশের শত শত একর ফসলি জমি, মিষ্টি পানির উৎস, ঘরবাড়ি ও জীববৈচিত্র্য চরম ধ্বংসের মুখে পড়বে, যা এলাকার হাজারো মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।
এদিকে রবিবার রাতে বাঁধ কাটার খবর পেয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী নিজে সরেজমিন পরিদর্শনে যান এবং অবৈধ কাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী বলেন, “পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মহোদয়ের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই আমি নিজে রাতে সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসে বৈধ কাগজপত্র আছে কি না তা যাচাই-বাছাই করবেন।”
ঘটনার বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, “আমি বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। ঘটনার খবর পেয়েই মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment