পেকুয়ায় বন্যাদুর্গত ৫৫০ পরিবারে বিমান বাহিনীর ত্রাণ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী
রেজাউল করিম রেজা, পেকুয়া (কক্সবাজার)।
কক্সবাজারের পেকুয়ায় টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট প্লাবনে দুর্গতদের মাঝে মানবিক সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ও মগনামা ইউনিয়নে বিমান বাহিনী ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজাখালী ইউনিয়নের ইয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের বিশেষ উদ্যোগে ৫৫০ টি বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণ শেষে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের উইং কমান্ডার মো. মোনোয়ারুল ইসলাম বলেন,
“যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমান বন্যার এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্থানীয় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের বাহিনীর পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কর্মসূচিতে বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দুর্যোগের এই মুহূর্তে বিমান বাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
মগনামায় প্রতিমন্ত্রী: “ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে না” এদিকে পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মগনামা এলাকায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন,
"জনগণের যেকোনো সংকটে সরকার সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারও যেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ত্রাণ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নাজমুল হক চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি, মো. আব্দুল মান্নান জেলা প্রশাসক (কক্সবাজার)
এ এন এম সাজিদুর রহমান, পুলিশ সুপার কক্সবাজার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (পেকুয়া) রফিকুল ইসলাম, মো. মেহেদী হাসান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পেকুয়া থানা,মো. ইউনুচ চৌধুরী চেয়ারম্যান,মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ, ফয়সাল চৌধুরী সভাপতি মগনামা ইউনিয়ন বিএনপি, এস এম জাকের হোসাইন সাধারণ সম্পাদক মগনামা ইউনিয়ন বিএনপি, সাংবাদিক সোহেল আজিম।
এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের অন্যান্য প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment