x

Ourislambd

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Ourislambd

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

ভবন আছে, কর্মী আছে, কিন্তু বন্ধ থাকে সারাবছর! মগনামা পোস্ট অফিসে চরম ভোগান্তি

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...


 খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা সাব-পোস্ট অফিসটি বছরের পর বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ভবন রয়েছে, নিয়োজিত আছেন পোস্টমাস্টারও। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সারাবছরই বন্ধ থাকে অফিসের মূল ফটক। ফলে জরুরি ডাক ও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ।

এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও এখানে জনগণের কোনো সেবা মিলছে না। দিনের পর দিন অফিসটি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। তাদের দাবি, অবিলম্বে অফিসটি চালু করে এলাকার যোগাযোগ ও ডাকসেবা সচল করা হোক।

 স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোঃ আবু তালেব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

"বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এই অফিসের তালা কখনো খোলা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। সরকার যেখানে ডিজিটাল সেবা সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে, সেখানে আমরা এলাকার বাসিন্দারা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছি।"

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সংবাদকর্মী রেজাউল করিম রেজা বলেন,

"এখানে সরকারি ভবন আছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীও আছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অফিসটি সারাবছরই বন্ধ থাকে। তাদের অফিশিয়াল কোনো কার্যক্রমই এখানে চোখে পড়ে না। আর এই অফিস বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে ছোটখাটো অফিশিয়াল কাজের জন্য পেকুয়া সদরে গিয়ে কাজ শেষ করতে হয়। এতে একদিকে যেমন মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকাও অপচয় হচ্ছে।"

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সরকারিভাবে এই পোস্ট অফিসে কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেসব মূল্যবান কম্পিউটার কোনোদিনই অফিসে আনা হয়নি। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও অযত্ন-অবহেলায় সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে পোস্টমাস্টারের নিজের বাড়িতেই পড়ে আছে এবং সেখানেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারের ডিজিটাল ডাকসেবার লক্ষ্যটি এখানে পুরোপুরি ভেস্তে গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মগনামা পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার নুর হোসেন তার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন:

"এখানে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। আমি ছাড়া আরও একজন কাজ করেন। চিঠি বিলি করাসহ সব কাজ আমাদের দুজনেই সামলাতে হয়। তার ওপর আমাদের বেতন অত্যন্ত সামান্য। গত ১৬ বছর ধরে এই চাকরি করছি, কিন্তু জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার থেকে তেমন কিছুই পাইনি।"

অফিসের কম্পিউটার সরকারি নিয়মের বাইরে নিজের বাড়িতে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে জনবল সংকট ও পারিশ্রমিক বৈষম্যকেই অফিস বন্ধ রাখার মূল কারণ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন তিনি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের পোস্ট অফিস এভাবে বছরের পর বছর বন্ধ থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রানার বা পিয়নের নিয়মিত দেখা মেলে না। ফলে জরুরি সরকারি চিঠি, চাকরির ইন্টারভিউ কার্ড কিংবা বিদেশ থেকে আসা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পার্সেল সময়মতো সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে না।

মগনামাবাসীর জোর দাবি, ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং মগনামার সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি ডাকসেবা অবিলম্বে উন্মুক্ত করেন।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন