x

Ourislambd

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

Logo

Ourislambd

One platform for all types theme

Download thousand of templates and start your business.

শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যা: পানিবন্দি হাজারো মানুষ, ত্রাণের খোঁজে মানবিক বিপর্যয়

প্রকাশঃ
0 জন এই প্রতিবেদনটি পড়েছেন
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণে ডুবল জনপদ; সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চলছে খাদ্য সহায়তা বিতরণ

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। রান্নাঘরের চুলো জ্বলছে না কোথাও, দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও চরম খাদ্য সংকট। এমন মানবিক বিপর্যয়ের মুখে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।

বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, অধিকাংশ পরিবার এখন নৌকার ওপর নির্ভরশীল। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে জরুরি ভিত্তিতে রান্না করা খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে এই সরকারি সহায়তা সরাসরি পানিবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পেকুয়া পৌরসভার বিভিন্ন প্লাবিত এলাকায় সাংবাদিক ছাফওয়ানুল করিমের নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবী নৌকাযোগে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন শুকনা খাবার।

এছাড়াও পৌরসভার শেখের কিল্লাঘোনা, মৌলভীপাড়া ও মাইজপাড়ায় সাবেক ছাত্রনেতা এরশাদুল আলম এবং গুলধি-সরকারি ঘোনা এলাকায় চিকিৎসক এম এ মনছুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে রান্না করা ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।

মগনামা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন, ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডেই উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

 শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত ৮০০ পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম নিজ উদ্যোগে প্রায় ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। 

রাজাখালী ইউনিয়নের লালজানপাড়ায় তীব্র সংকটে থাকা শতাধিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউপি সদস্য গোলাম রহমান। বারবাকিয়া ইউনিয়নে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শাহাদাত কবির তার পারিবারিক তহবিল থেকে ৬০০ পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বন্যাদুর্গত এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকেও জোরালো ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মাঝে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের এই মানবিক তৎপরতায় বানভাসি মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, স্থানীয়দের মতে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পানি না নামা পর্যন্ত এই সরকারি ও বেসরকারি খাদ্য সহায়তা যেন কোনোভাবেই বন্ধ না করা হয়—এমনটিই দাবি ভুক্তভোগীদের। তারা দ্রুত বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন