দলের নেতাদের ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যা, কর্মীদের ‘বেহেশত’ দেওয়ার ঘোষণা পেকুয়া বিএনপি নেতার!
নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বিএনপির এক প্রস্তুতি সভাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যা দেওয়া, সাধারণ কর্মীদের ‘বেহেশত’ দেওয়ার ঘোষণা এবং নেতৃত্বস্থানীয়দের বিরুদ্ধে ‘লুটপাটের’ গুরুতর অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন (প্রকাশ শাহাদাত মেম্বার)।
গত শুক্রবার (৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে টৈটং ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ইতিমধ্যে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টৈটং ইউনিয়নের সাবেক এই ইউপি সদস্য ও যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তাঁর বক্তব্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শাহাদাত মেম্বার বলেন:
"বিএনপির অনেক নেতা কর্মীদের শুধু মিছিল-মিটিংয়ে ব্যবহার করেন। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা ভোগ কিংবা বিভিন্ন লুটপাট করে খাওয়ার সময় তাঁদের পাশে রাখেন না।"
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দলের কিছু নেতাকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে উল্লেখ করেন। এর পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘বেহেশত দেওয়ার’ ঘোষণা দিলে সভাস্থলে উপস্থিত সবাই চরম বিস্মিত ও হতবাক হয়ে পড়েন।
শাহাদাত মেম্বারের এমন বক্তব্যে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে টৈটং বিএনপির অভ্যন্তরীণ তীব্র কোন্দল, ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের বিভেদই প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মীর মুখে এমন বক্তব্য দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
টৈটং ইউনিয়নে নেতাদের এমন বিতর্কিত মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে টৈটং ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু বক্কর সাংবাদিকদের ‘কুলাঙ্গার’ বলে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই একই শব্দ প্রয়োগ করলেন শাহাদাত হোসেন।
সংশ্লিষ্ট নেতার প্রোফাইল ও বিতর্ক শাহাদাত হোসেন (শাহাদাত মেম্বার) সাবেক ইউপি সদস্য ও সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক, টৈটং ইউনিয়ন যুবদল। পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। পেকুয়ার বহুল আলোচিত ‘মাস্টার আরিফ হত্যা মামলার’ অন্যতম আসামি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে ও বাইরে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হলেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে টৈটং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার জয়নাল আবেদীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শাহাদাত মেম্বারের এই ‘কুলাঙ্গার’ মন্তব্য এবং ‘বেহেশত দেওয়ার’ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো পেকুয়া উপজেলায় এখন চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কৌতূহল বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
This theme has been developed by OURISLABD.

Post a Comment