ঠিকাদারের চক্রান্ত ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মগনামার ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীর পাল্টা জবাব: কাজের নথিপত্র প্রকাশ
খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়াঃ
সরকার, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন এজেন্সি এবং দেশবাসীর স্পষ্ট ধারণার জন্য চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কাজের ধারাবাহিক বিবরণ ও প্রমাণাদি নিচে তুলে ধরা হলো:
গত ০৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে আকস্মিক জোয়ারের পানিতে সোনালী বাজার এলাকার স্লুইসগেটটি ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে এবং লবণ মাঠ তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে ওই রাতেই মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেন। পরদিন ০৪ মার্চ ইউএনও এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাউবো-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেন এবং লবণ চাষিদের রক্ষায় চেয়ারম্যানকে দ্রুত বাঁধ মেরামতের নির্দেশ দেন। এরপর ০৪ ও ০৫ মার্চ চেয়ারম্যান নিজস্ব উদ্যোগে দিন-রাত এস্কেভেটর ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করে ভাঙনকৃত স্লুইস বাঁধ সাময়িকভাবে মেরামত করেন।
গত ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে জরুরি আপদকালীন কাজের ঠিকাদার ফয়সাল চৌধুরী এস্কেভেটর গাড়ি দিয়ে ওই মেরামতকৃত বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয় লবণ চাষিরা বাধা দেয়। তখন ঠিকাদার দ্রুত স্থায়ী বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে ৩১ মার্চ পানি উন্নয়ন বোর্ড (স্মারক নং ৭২) মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ বরাবরে 'জরুরি আপদকালীন মেরামত কাজ বাস্তবায়ন কমিটি'র জন্য একজন জনপ্রতিনিধি মনোনীত সদস্য নিয়োগের পত্র পাঠায়। অভিযোগ উঠেছে, এই চিঠি আসার পর ঠিকাদার ফয়সাল চৌধুরী তার পছন্দের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোক্তার আহমদকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চেয়ারম্যানকে বারবার ফোন করে ও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন (যার অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে)। চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য শাহাআলমকে সদস্য করার প্রস্তাব দিলে, ঠিকাদার তার সাথে আর্থিক লেনদেনের ঝামেলা রয়েছে বলে আপত্তি জানান। এই পরিস্থিতিতে পরিষদের বিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে নিজেই জনপ্রতিনিধি মনোনীত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পাউবোর প্রতিনিধি জনাব মোহাম্মদ ফোরকান, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী জনাব সামিউল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী এবং ঠিকাদার ফয়সাল চৌধুরীর উপস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতকৃত ১৬৪টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ গণনা করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধকরণের মাধ্যমে কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও ঠিকাদার সাইটে কোনো বালি বা জিও ব্যাগ না আনায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকার জনগণ ও লবণ চাষিদের মধ্যে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়। বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদার কালক্ষেপণ করতে থাকেন। অবশেষে উদ্বোধনের ২৮ দিন পর, গত ১৯ মে ২০২৬ তারিখে ঠিকাদার মাত্র ৬০০টি জিও ব্যাগ প্রস্তুত করেন।
অবৈধ প্রস্তাব ও চেয়ারম্যানের প্রত্যাখ্যান করেন ১৯ মে কমিটির তিন সদস্য ও ঠিকাদারের উপস্থিতিতে জিও ব্যাগ গণনা শেষে ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দিয়ে দুই কর্মকর্তা চলে যান। এরপর মাঠে অবস্থান করছিলেন চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী ও মেম্বার শাহআলম। আনুমানিক ১৩০টি ব্যাগ ফেলার পর ঠিকাদার ফয়সাল চৌধুরী চেয়ারম্যানকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে এককভাবে এক অবৈধ প্রস্তাব দেন। ঠিকাদার দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যানের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং তার ব্যবসায় অনেক লোকসান হচ্ছে; তাই কাজের স্বার্থে তাকে যেন পুরো ৬০০টি বালিভর্তি জিও ব্যাগের ভুয়া মূলে রেজিস্টারে দস্তখত (স্বাক্ষর) করে দেওয়া হয়।
জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে চেয়ারম্যান এই অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, ঠিকাদার ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তাদের অনুরোধে নিজস্ব অর্থায়নে এস্কেভেটর ও শ্রমিক দিয়ে জিও ব্যাগগুলো ভাঙন জায়গায় ফেলতে বাধ্য হন।
ঈদুল আজহার আগে সড়ক সচল ও সরকারি মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে আরও ৮৫৫টি জিও ব্যাগ গণনা করে রেজিস্টারে লিপিবদ্ধপূর্বক ভাঙন স্থানে স্থাপন করা হয়। সামনে (২৮ মে) ঈদুল আজহা থাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি গাড়ি চলাচলের উপযোগী করতে ইট ও বালি প্রয়োজন ছিল। চেয়ারম্যান পাউবো ও জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির সাথে আলাপ করে ঠিকাদারকে সেই অনুযায়ী কাজ করতে বললে ঠিকাদার চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান। নিরুপায় হয়ে চেয়ারম্যান বাস্তবায়ন কমিটির বাকি সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে নিজস্ব অর্থায়নে ২৬ মে দিন-রাত কাজ করিয়ে রাস্তাটি সচল করেন। এর ফলে দীর্ঘ ২ মাস ৭ দিন পর উজানটিয়া ও সোনালী বাজার এলাকার মানুষ গাড়িযোগে যাতায়াতের সুযোগ পায়।
এদিকে সিডিউল অনুযায়ী উক্ত স্লুইসগেটে ২টি নতুন ৬ ফুট প্রস্থের লোহার নাশি (কপাট) বসানোর কথা থাকলেও, ঠিকাদার ফয়সাল চৌধুরী পুরাতন লোহার নাশি ২টি সরকারি দপ্তরে জমা না দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেছেন বলে চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন।
মগনামা-উজাননিয়াবাসীর প্রতি চেয়ারম্যানের আহ্বান নিজের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত পথ সুগম করার পরেও ঠিকাদারের এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডাকে হাস্যকর বলে আখ্যা দিয়েছেন চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী। তিনি বলেন:
"প্রকৃতি ছাড় দেয়, কিন্তু ছেড়ে দেয় না। আমার বিরুদ্ধে এই কুৎসা ও কাল্পনিক বক্তব্যের বিচার আমি মগনামা-উজানটিয়াবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ আমার সহায় এবং জনগণই আমার শক্তি।"
উল্লেখ্য, এই বক্তব্যের সপক্ষে তারিখ অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাপ্তরিক চিঠি এবং যাবতীয় কাজের প্রমাণাদি ও নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।

Post a Comment