Saturday, March 14, 2026

পেকুয়ায় মা-মেয়েকে হেনস্তার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে



নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া 

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মা-মেয়েকে মারধরসহ হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। সরকারি জায়গা থেকে বসত বাড়ি গুড়িয়ে দিতে ইউপি সদস্যের নেতৃত্ব দুর্বৃত্তরা অসহায় বয়োবৃদ্ধ মহিলার বসত বাড়িতে হানা দেয়। এসময় ভাংচুরসহ তান্ডব চালানো হয়। এ কান্ডের প্রতিবাদ করায় মেম্বারসহ তার অনুগত লোকজন বাড়ির মালিক মা ও মেয়েকে লাথি,কিলঘুশিসহ চরম হেনস্তা করে। ১১ মার্চ সকালে  উপজেলার টইটং ইউনিয়নের নতুনপাড়ায় এঘটনা ঘটে।

স্হানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বসতবাড়ির ১২ শতক জায়গা নিয়ে টইটং ইউপির ২ নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম ও একই ওয়ার্ড়ের নতুনপাড়ার বাসিন্দা মৃত আলী আহমেদের স্ত্রী বদিউজ্জামালের বনিবনা চলছিল। টইটং বাজারের সামন্য পূর্বে এ জায়গাটির স্থিতি অবস্থান। অর্ধেক অংশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড ( পাউবো) নিয়ন্ত্রনাধীন ও অবিশিষ্ট এরশাদ আলী ওয়াকফের মালিকানাধীন সম্পত্তি এ জায়গা।

আলী আহমেদের স্ত্রী বদিউজ্জামাল ত্রিশ বছর পূর্বে থেকে পতিত থাকা এ জায়গায় বসতবাড়ি তৈরী করে । বসবাস করেছিলেন  পরিবার পরিজন নিয়ে। পাউবো অংশের ৬ শতক জায়গা পন্ডিত বাড়ির গোলাম আজম (ওরফে কায়েস মিয়া) কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে লীজ গ্রহীতা ছিলেন। ওই লীজ প্রাপ্ত অংশের ৬ শতক জায়গা গোলাম আজমের স্ত্রী রাশেদা খানম ও বদিউজ্জামালের মেয়ে কহিনুর আক্তারের মধ্য বিক্রি চুক্তিনামা সম্পাদিতও হয়েছে। নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পমুলে রাশেদা খানম মরহুম স্বামীর ভোগ দখলীয় এ জায়গা কহিনুর আক্তারের অনুকুলে দখল হস্তান্তর করেন।

অভিযোগ উঠেছে  বসতবাড়ি জবর দখল ও ভিটা থেকে জোর পূর্বক উচ্ছেদ কু-মানসে ভাড়াটে লোকজনসহ ইউপি সদস্য আবুল কালাম ঘটনার দিন সকালে বদিউজ্জামালের বসতবাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘেরাবেড়া ভাংচুরসহ বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার চেস্টা চালায়। এমনকি ড্রাম ট্রাক দিয়ে কয়েক গাড়ী মাটি ফেলে অসহায় নারীর বসতবাড়ি জরর দখলের প্রচেষ্টা চালায়। এসময় বদিউজ্জামাল ও মেয়ে কহিনুর আক্তার এসবে বাধা দেয়। এরজেরে দু'পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে মেম্বারসহ দখল করতে আসা লোকজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা বদিউজ্জামাল ও মেয়ে কহিনুর আক্তারকে মারধরসহ হেনস্তা করে। খবর পেয়ে স্হানীয় লোকজন সেখানে জড়াে হয়। এ ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ হন। এসময় ব্যপক হট্টগোল হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখতে পেয়ে ইউপি সদস্য আবুল কালাম লোকজন নিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য হন।

এব্যাপারে বদিউজ্জামাল বলেন আমি খুবই অসহায় স্বামী মারা গেছে বহু আগে। ত্রিশ বছর আগে এ জায়গায় বাড়ি করেছি। আমার একটি মাত্র মেয়ে। মেয়ে আর আমি থাকি। মেয়ে চট্টগ্রামে মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে। ক্ষমতা ও টাকার জোরে আবুল কালাম মেম্বার আমি আমার মেয়েকে এখান থেকে উচ্ছেদ করতে চায়। আমি ও আমার মেয়ে কহিনুরকে মারধর করেছে। ভাংচুরও করেছে। মেয়ে কয়েকদিন থাকবে এ আশায় বাড়িতে আসে। বেইজ্জতির ভয়ে আবারো শহরে চলে গেছে। ইউএনও সাহেবকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

এ ব্যপারে টইটং ইউপির ২ নং সদস্য আবুল কালাম বলেন এ জায়গা আমার। আমি বদিউজ্জামাল এখানে থাকতে দিয়েছিলাম। বিগত সরকারের পরিস্থিতি আমার অনুকুলে ছিল না। এখন আমার অনুকুল তাই আমার জায়গা আমি নিয়ে ফেলছি। পেকুয়ার ইএনও মাহবুব আলম মাহবুব বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।


শেয়ার করুন