মা-মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন: চকরিয়ায় আরও দুই ডাকাত গ্রেফতার, আদালতে জবানবন্দি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতবাড়িতে ডাকাতি শেষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মা ও মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আরও দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কায়ছার উদ্দিন ও রেজাউল করিম। এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় মোট ৭ জন গ্রেফতার হলেন। এর আগে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোহাম্মদ মাসুদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চকরিয়ার পূর্ববড় ভেওলা এলাকায় মা-মেয়েকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ।
"জড়িত ডাকাতদের ধরতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সোর্স নিয়োগ করা হয়েছিল। বুধবার রাতে কায়ছার ও রেজাউলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর পরই চকরিয়া থানা ও মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছিল। তাদের মধ্যে দুই আসামি বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, "বাড়িতে ডাকাতি ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত আরও দুই ডাকাতকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে যথাযথ বিধি মেনে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন (সোমবার) দিবাগত রাতে চকরিয়ার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলনীঘোনা এলাকায় এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে নারকীয় এই ঘটনা ঘটে। ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল প্রবাসী ফুরুক আহমদ চৌধুরীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিলে এক স্কুলছাত্রী ও তার মাকে ব্যাপক মারধর এবং পাশবিক নির্যাতন করা হয়। যাওয়ার সময় আলমারি ভেঙে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয় ডাকাতদল।
পরে প্রতিবেশীরা এসে আহত মা-মেয়েকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস ও ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ তাৎক্ষণিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পাঁচজনকে আটক করেছিল।
পরদিন মঙ্গলবার (৯ জুন) আক্রান্ত পরিবারের সদস্য হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় ডাকাতি ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Post a Comment