পেকুয়ায় অভিযান চালিয়ে শত একর সরকারি জমি উদ্ধার
খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া (কক্সবাজার)
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর দখলমুক্ত হলো কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক রূপাই খাল এবং রঙিখাল। প্রভাবশালী চক্রের নির্মিত কৃত্রিম বাঁধ কেটে উদ্ধার করা হয়েছে সরকারের প্রায় শত একর সরকারি খাস জমি। বাঁধ অপসারণের পরপরই অবরুদ্ধ খাল দুটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় আনন্দে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা—জাল, পলো ও নানা সরঞ্জাম নিয়ে মুক্ত পানিতে শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ও ব্রিটিশ আমলে খনন করা রূপাই খাল ও রঙিখালের গভীরতা ছিল প্রায় ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ছিল ২০০ থেকে ২৫০ ফুট। একসময় উন্মুক্ত ও প্রবাহমান এই খালে মাছ শিকার করে স্থানীয় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন।
তবে গত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় মিজানুর রহমান, আব্দুর রহিম ও ইউছুপ গং, গিয়াস উদ্দিন এবং নুরুল আজিম ও নুরুল আফছার গংসহ কতিপয় প্রভাবশালী চক্র খালের বিভিন্ন পয়েন্টে ৪৮টি কৃত্রিম বাঁধ (গুদা) ও আড়জাল বসিয়ে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের গড়ে তোলে। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে ৩ হাজারেরও বেশি পরিবার ভয়াবহ কৃত্রিম জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছিল। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হতো স্থানীয় লবণমাঠ, ফসলি জমি ও চিংড়ি চাষিদের।
সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে এসে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চার দিনব্যাপী চালানো এই অভিযানে—অবৈধ বাঁধ অপসারণ: এখন পর্যন্ত অন্তত ২১টি কৃত্রিম বাঁধ (যার মধ্যে রূপাই খালের ৮টি প্রধান বাঁধ) কেটে খালের পানি প্রবাহ উন্মুক্ত করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বাঁধ তৈরিতে ব্যবহৃত কংকরের পিলার, গাছের খুঁটি এবং মাছ ধরার অবৈধ জাল।
এখন পর্যন্ত সরকারের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ একর সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।উচ্ছেদ অভিযানটি আরও ৩-৪ দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইউপি কর্তৃপক্ষ।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন,মগনামা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন, মোকতার আহমদ, পেকুয়া থানার পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, মগনামা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি আজমগীর, যুবদল নেতা সাঈদ খান এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ইউপি শ্রমিকদলের পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করা হয়।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন,"জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এই অভিযান। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে হাজার হাজার মানুষকে জিম্মি থাকতে দেওয়া হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসন ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও আমাদের কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।"
সচেতন মহল ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এ ধরনের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তারা অবৈধ দখলদারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং পেকুয়ার প্রায় ৫,০০০ পরিবারের জীবিকা ফিরিয়ে দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো রূপাই খাল পুনর্খনন প্রস্তাবনাটি দ্রুত অনুমোদনের জোরালো দাবি জানান।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment