ফরহাদ উদ্দীন মিজবাহ কক্সবাজার
বন্দিদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, মোবাইল ও মাদক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজার জেলা কারাগার-এ। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার দেলোয়ার। অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কারাগারের ভেতরে থাকা কয়েকজন বন্দি এবং জামিনে মুক্ত হওয়া কিছু হাজতির দাবি, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে সেখানে একটি ঘুষভিত্তিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কারাগারের কিছু কর্মকর্তা ও কারারক্ষী বন্দিদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করেন এবং এসব কার্যক্রমের পেছনে উচ্চপর্যায়ের প্রভাব রয়েছে।
অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজতি জানান, তাকে ডিটেনশন আসামি দেখিয়ে দীর্ঘ সময় সেলে আটকে রাখা হয়। পরে সাধারণ বন্দিদের মতো সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি বলেন, অনেক কষ্টে ৪ লাখ টাকা দেওয়ার পরও কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং তাকে আরও দীর্ঘ সময় সেলে আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্ন সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি কল রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বন্দিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন সুবিধা পেতে আলাদা আলাদা অর্থ দিতে হয়। যেমন—ওয়ার্ড পরিবর্তন, সেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ, বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি।
কারাগারে মাদক প্রবেশের অভিযোগ
কিছু বন্দির দাবি, কারাগারের ভেতরে গাঁজা, ইয়াবা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য প্রবেশ করছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এমনকি মাদক সেবনের জন্য আলাদা স্থান বা ওয়ার্ডও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুয়া অসুস্থতা দেখিয়ে হাসপাতালের সুবিধা
আরও অভিযোগ রয়েছে, কারা হাসপাতালে কিছু বন্দিকে ভুয়া রোগী দেখিয়ে মাসিক অর্থের বিনিময়ে আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়। এর জন্য মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বন্দি।
মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ
বন্দিদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাবশালী কিছু আসামিকে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। এর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
জামিনে মুক্ত হওয়া নুরুল আবছার নামের এক ব্যক্তি বলেন, “কারাগারের ভেতরে টাকা থাকলে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। মাদক থেকে শুরু করে মোবাইল—সবই টাকার বিনিময়ে পাওয়া সম্ভব।” তিনি আরও জানান, ক্যান্টিনের বাইরে আলাদা রান্নার ব্যবস্থাও রয়েছে, যেখানে এক কেজি রান্না করা গরুর মাংসের দাম প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে জেলার দেলোয়ার কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলা কারাগার দেশের অন্যতম বড় কারাগার। এখানে প্রায় তিন হাজারের বেশি বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গা বন্দি, মাদক মামলার আসামি এবং বিভিন্ন মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও আছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা দেশের কারা ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।





