শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

পেকুয়া বাজারের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ, শুরু সংস্কারকাজ

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...

দখলমুক্ত করতে সীমানা নির্ধারণের প্রস্তুতি, প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান

খোরশেদুল ইসলাম, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়া বাজারের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অবৈধ দখল ও আশপাশে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় সংকুচিত হয়ে পড়া মাঠটির সীমানা নির্ধারণ এবং দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সচেতন মহলের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম মাঠটি পরিদর্শন করেন। এ সময় মাঠের সীমানা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্কেভেটর দিয়ে প্রাথমিক সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। পরিদর্শনকালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুটসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আনিসুল ইসলাম জানান, দ্রুত মাঠের প্রকৃত সীমানা পরিমাপ করে অবৈধ দখল চিহ্নিত করা হবে। এরপর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযানও পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি ও ক্রীড়ানুরাগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পেকুয়া বাজারের এই মাঠ একসময় উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়াকেন্দ্র ছিল। মাঠটিতে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলা ও টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো। স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল এটি।

তবে দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, মাঠের বিভিন্ন অংশে দখল এবং আশপাশে পাকা স্থাপনা ও দোকানঘর গড়ে ওঠায় মাঠটির পরিসর ক্রমেই কমে আসে। এতে স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। একসময় যে মাঠ ছিল এলাকার ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র, সেটি ধীরে ধীরে তার ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক ব্যবহার হারাতে থাকে।

মাঠটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, “এই মাঠ পেকুয়াবাসীর শত বছরের ঐতিহ্য। এটি দখলমুক্ত করে খেলাধুলার উপযোগী করা গেলে নতুন প্রজন্ম আবারও মাঠে ফিরতে পারবে। তরুণদের মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি।”

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, শুধু প্রাথমিক সংস্কারেই সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠটির সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

তাঁদের মতে, মাঠটি পুনরুদ্ধার করা গেলে পেকুয়ার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ ফিরবে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, তরুণদের সুস্থ বিনোদন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়বে।

এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগ যেন কার্যকর ও স্থায়ী হয় এবং শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাঠটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকে।

This theme has been developed by OURISLABD.
শিরোনাম...

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%