অযু করতে গিয়ে ইমামের মর্মান্তিক মৃত্যু, ভাঙা সড়কে চিকিৎসার বিলম্ব কেড়ে নিল প্রাণ
অ্যাম্বুলেন্স না আসায় কাঁধে বহনের পর শেষ রক্ষা হলো না
খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া:
মসজিদে আছরের নামাজের আগে ওযু করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলে হয়তো বাঁচানো যেত জীবনটি। কিন্তু প্রায় তিন কিলোমিটার জরাজীর্ণ ও ভাঙা সড়কের কারণে কোনো যানবাহন পৌঁছাতে পারেনি এলাকায়। বাধ্য হয়ে আহত ইমামকে কাঁধে বহন করেই হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্থানীয়রা। কিন্তু পথেই ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে দরদরিয়াঘোনা গ্রামে,নিহত মাওলানা নুরুল ইসলাম (৫৫) উক্ত ইউনিয়নের সাতঘরপাড়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় দরদরিয়াঘোনা জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো আছরের নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে মসজিদে ওযু করতে গিয়ে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পা পিছলে পড়ে যান মাওলানা নুরুল ইসলাম। এতে তিনি মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
তবে দরদরিয়াঘোনা থেকে মহুরীপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে কোনো অ্যাম্বুলেন্স কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিকশাও দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। অগত্যা গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে তাঁকে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে বহন করে প্রধান সড়কের দিকে নিয়ে রওনা হন। কিন্তু মহুরীপাড়া পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে মগনামা ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটির বেহাল দশা। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। আজ যদি রাস্তাটি ভালো থাকত, তবে সময়মতো গাড়ি পাওয়া যেত এবং একটি মূল্যবান প্রাণ এভাবে ঝরে যেত না।"
ঘটনার পর মগনামা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক নজর দেখতে তাঁর বাড়ি ও মসজিদ প্রাঙ্গণে ভিড় জমান শত শত পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। একজন নিষ্ঠাবান ইমামের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত উক্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

Post a Comment