টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল, পাহাড় ধসের আশঙ্কায় মাইকিং
খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া:
উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বেড়ে নতুন করে পেকুয়া পৌরসভা ও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের খাল-বিল ও জলাশয় উপচে পানি বসতবাড়ি, সড়ক এবং কৃষিজমিতে প্রবেশ করেছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিচু এলাকার শত শত পরিবার বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা।
টানা বর্ষণে রোপা আমন ক্ষেত, শাকসবজি ও অসংখ্য মৎস্য ঘের তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা জানান, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না গেলে ক্ষেতের ফসল ও ঘেরের মাছ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
এ ছাড়া অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নালা নির্মাণের কারণে জলজট স্থায়ী রূপ নিচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। তারা অনতিবিলম্বে পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার এবং সরকারি জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্যমতে, পেকুয়ায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই ধারা আরও কিছু দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নোক্ত এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে,
পেকুয়া সদর মিয়াপাড়া, শেখের কিল্লা ঘোনা, সাঁকোর পাড়, হাঁসপাড়া, সাগর পাড়া, হরিণাপাড়ি, বাইম্যাখালী, বিলহাছুড়া, ছিরাদিয়া, জালিয়াখালী, মগকাটা, বটতলী পাড়া ও মেহেরনামা।
শিলখালী মাঝের ঘোনা, বাজারপাড়া ও জারুলবনিয়া।বারবাকিয়া কাদিমাখাটা, বারাইয়াকাটা ও জালিয়াখাটা।টৈটং ভেলুয়া পাড়া, নতুন পাড়া ও নাপিতখালী।মগনামা সাতঘর পাড়া, বোড়িং পাড়া, মিয়াাজিপাড়া , ঘাট মাঝির পাড়া, মগঘোনা, নাপিতারদিয়া ও বাজারপাড়া।উজানটিয়া টেকপাড়া, মালেক পাড়া ও সুতাছুড়া।রাজাখালী লালজান পাড়া, নতুন ঘোণা, দিলজান পাড়া, পালাকাটা ও টেকঘোনা।
পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ও সিপিপি প্রস্তুত রয়েছে।
"উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।" রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পেকুয়া।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পেকুয়ায় পূর্বেও মারাত্মক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তাই পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সতর্ক করতে বারবাকিয়া, শিলখালী ও টৈটং এলাকায় মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মাইকিং করা হচ্ছে।
অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলা সিপিপির (CPP) সদর ইউনিয়ন টিম লিডার এফ সুমন বলেন, "আমরা নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সতর্ক বার্তা জারি করেছি। একই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে দ্রুত সাইক্লোন শেল্টারে নিরাপদ স্থানান্তরের কাজ চলছে।"
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপজেলার সকল নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment