সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে মগনামা: খাল খনন ও অবৈধ দখলমুক্ত করার দাবি
মগনামা মহুরীপাড়া-মগঘোনা চলাচলের রাস্তার উপর পানি
খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে সামান্য বৃষ্টি কিংবা জোয়ারের পানিতেই তলিয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াত পথ। অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক ঐতিহাসিকভাবে প্রবাহিত প্রাকৃতিক খালগুলো অবৈধভাবে দখল করে নেওয়ায় এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দা, পথচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে যেখানে টানা ৩-৪ দিন ভারী বৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নেমে যেত, সেখানে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে। মগনামার ঐতিহ্যবাহী 'রুপাই খাল'সহ অসংখ্য সরকারি খালে কৃত্তিম বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সামান্য পানির চাপেই মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ও লোকালয় পানির নিচে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বা ক্যানেলগুলো বন্ধ থাকায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাঘাট, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যাতায়াত এবং স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য। বর্তমানে মগঘোনা ও দরদরিয়াঘোনা এলাকার কিছু কিছু বাড়িতে হাঁটু সমান পানি থৈ থৈ করছে।
ভুক্তিভোগী এক বাসিন্দা বলেন,আগে বৃষ্টি হলে পানি নেমে যেত নদী বা সাগরে। এখন প্রভাবশালীরা খাল গিলে খাওয়ায় আমাদের ঘরের ভেতর পানি ঢুকছে। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল, ছেলেমেয়েরা স্কুলে পর্যন্ত যেতে পারছে না।"
দেশের সামগ্রিক কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিগত অবস্থানে 'খাল খনন' কর্মসূচির ওপর সবসময়ই বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে বিএনপি সরকারের বিগত আমলগুলোর অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় কর্মসূচি ছিল দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে পানি নিষ্কাশন ও কৃষি বিপ্লবের এই নীতিগত অগ্রাধিকারকে কাজে লাগিয়ে মগনামার মৃতপ্রায় খালগুলো পুনরুদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। এই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে এখনই অবৈধ খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী জলাবদ্ধতার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,"অবৈধ দখলদারদের কারণে পুরো এলাকা আজ একাকার হয়ে গেছে। খালের জায়গা দখল করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই ব্যাপারে ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।"
সংশ্লিষ্ট খালের জায়গাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মগনামার সর্বস্তরের জনগণ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যদি যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

Post a Comment