এক যুগের দুর্ভোগে পশ্চিম কোনাখালী বড় কবরস্থান সড়ক
পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোনাখালী বড় কবরস্থান সড়কটি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চরম অবহেলার শিকার। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে দীর্ঘদিন কোনো টেকসই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফলে সড়কটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরআলী স্টেশনের পশ্চিম পাশে হাজী হামিদ আলী জামে মসজিদ থেকে হোছাইনিয়া দারুল উলুম মাদরাসা পর্যন্ত বিস্তৃত এই আঁকাবাঁকা সড়কের অধিকাংশ অংশের ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষাকালে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়া পাড়া, নতুনঘোনা এবং পার্শ্ববর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাজির পাড়া, মৌলভী পাড়া, খাতুন পাড়া ও তজুবাপের পাড়াসহ অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়কের ওপর নির্ভর করে যাতায়াত করেন।
সড়কটির আশপাশে রয়েছে এবতেদায়ী মাদরাসা, হোছাইনিয়া দারুল উলুম মাদরাসা, পশ্চিম কোনাখালী করিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, করিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি নুরানী মাদরাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুরি মনি ও সাঈদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, "বর্ষাকালে সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় বই-খাতা ও স্কুলের পোশাক ভিজে যায়। অনেক সময় নোংরা পানির কারণে স্কুলে যাওয়াই বন্ধ হয়ে যায়।" একই বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, "পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পুকুরে পরিণত হয়, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।"
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দাবি, বিগত দিনে রাজনৈতিক কারণে এই সড়কটি চরম উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাহাদুর বলেন, "এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও কোনো কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। সড়কটি এখন এই এলাকার মানুষের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।"
ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, "নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাবেই মূলত সড়কটি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। বিগত আমলারা মনের ক্ষোভ থেকে ইচ্ছে করেই সড়কটির উন্নয়ন করেনি। অথচ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ এই সড়ক দিয়ে কয়েক বার যাতায়াত করেছেন। তিনি নিজেই সড়কের এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। আমরা এই চরম দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে সড়কটির দ্রুত সংস্কার চাই।
সড়কটির করুণ দশার কারণে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পেশাজীবীরা চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষক মুহাম্মদ তারেক বলেন, "সড়কের এই করুণ পরিস্থিতির কারণে মুসল্লিরা ঠিকমতো মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতে পারছেন না। উৎপাদিত ফসল বাজারে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।"
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম ও আবুল হোসেন বলেন, "এই সড়ক এখন দুর্ভোগের প্রতীক। হঠাৎ কোনো মানুষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না, রোগীকে কাঁধে করে মূল সড়কে নিয়ে যেতে হয়।"
টমটম চালক খোকন জানান, ভাঙা সড়কের কারণে এখন এই রুটে নিয়মিত গাড়ি চলে না। যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চালকরা এড়িয়ে চলেন এই পথ, যার ফলে অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার সড়কটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, সড়কটির দীর্ঘদিনের সমস্যা সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত আছেন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, বর্ষা মৌসুমের আগেই যেন এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয়।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment