৫০ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া: চরম দুর্ভোগে ৫ হাজার মানুষ
খোরশেদুল ইসলাম, মাতামুহুরি (কক্সবাজার)।
কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা-শুকুরমারা খালপাড় সড়কটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটির কারণে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন, কিন্তু বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাকরিয়া সড়কের পাশের উকিল আহমদের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে গাইন ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি পরে জঙ্গলকাটা হয়ে এবিসি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সময়ের সাথে সাথে সড়কটির কোথাও কোথাও অস্তিত্বই বিলীন হয়ে ফসলি জমির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।
বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, কোনো জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে এখনো দোলনা বা মানুষের কাঁধই একমাত্র ভরসা।
এই সড়কটি ব্যবহার করেই প্রতিদিন মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরনামা আলমাছিয়া দাখিল মাদরাসা, মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয়, পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ, বিএমআই ইনস্টিটিউট কলেজ এবং মরংঘোনা নুরানী তালিমুল কোরআন মাদরাসার শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।
বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম এবং মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কাইয়ুম জানায়, কাদার কারণে পড়ে গিয়ে প্রায়ই তাদের বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। নিয়মিত স্কুলেও যাওয়া যায় না।
মাদরাসা ছাত্রী মারিয়া জান্নাত শিফা জানায়, "কাদা মাড়িয়ে যাওয়ার সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা চরম অস্বস্তিকর ও ভোগান্তির।"
মরংঘোনা নুরানী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক জালাল আহমদ বলেন, "প্রতিদিন দুই শতাধিক শিশু এই সড়ক দিয়ে আসে। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হলেও রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।"
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কটির বেহাল দশার কারণে থমকে গেছে স্থানীয় জীবন-জীবিকা ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
টমটমচালক রুহুল আমিন জানান, রাস্তা কাদায় ভরপুর থাকায় এখন আর গাড়ি চালানো যায় না। ফলে চালকদের আয়-রোজগার বন্ধের উপক্রম।স্থানীয় ব্যবসায়ী নবী হোসেন বলেন, সড়কটি খারাপ হওয়ায় পণ্য আনা-নেওয়ায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। রাস্তাটি পাকা হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটতো।
স্থানীয় শতবর্ষী লেদু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জীবনে অনেক সরকার দেখলাম, কিন্তু এই সড়কের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখলাম না।"
কোনাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ হাসান বলেন, "চেয়ারম্যান আসে, চেয়ারম্যান যায়, কিন্তু সড়কের পরিবর্তন হয় না। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, জনদুর্ভোগের বিষয়। কর্তৃপক্ষের এখনই আন্তরিক হওয়া উচিত।"
নেই সরকারি কোড নম্বর, আশার বাণী জনপ্রতিনিধির দীর্ঘ ৫০ বছরেও কেন সড়কটির উন্নয়ন হলো না—জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইফতেখার বকুল বলেন:
"সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে এতদিন রাস্তাটির কোনো সরকারি কোড নম্বর ছিল না। আমরা সম্প্রতি কোড নম্বরের জন্য আবেদন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
এলাকাবাসীর দাবি, আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়; শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মরংঘোনা-শুকুরমারা খালপাড় সড়কটি যেন অনতিবিলম্বে পাকাকরণ করা হয়
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment