পেকুয়ায় মৎস্য ঘোনা দখলচেষ্টা: ২ জন ওয়ানশুটার ও ১৫টি খালি কার্তুজসহ গ্রেফতার, ইঞ্জিন বোট জব্দ
খোরশেদুল ইসলাম,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়ায় একটি বিশাল মৎস্য ঘোনা জোরপূর্বক জবরদখল চেষ্টার সময় দেশীয় তৈরি ২টি এলজি (আগ্নেয়াস্ত্র), ১৫টি শটগানের খালি কার্তুজ, ২টি তাজা কার্তুজ এবং একটি ইঞ্জিন চালিত বোটসহ দুই ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ।
আজ ভোররাতে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের কড়িয়ারদী বিছাখালীস্থ ‘বাহিরের ঘোনা’ (যা স্থানীয়ভাবে মোক্তরের ঘোনা নামে পরিচিত) এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন ১. নেজাম (৩৭), পিতা- মৃত উলামিয়া, মাতা- মনোয়ারা বেগম; সাং- উত্তর নলবিল (কালামারছড়া ইউনিয়ন, মহেশখালী)। ২. শহিদুল ইসলাম (৩৫), পিতা- আব্দুল জব্বার, মাতা- মৃত খালেদা বেগম; সাং- মাঝের পাড়া, ০১ নং ওয়ার্ড (বদরখালী ইউনিয়ন, চকরিয়া/মাতামুহুরী)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজানটিয়ার কড়িয়ারদী এলাকার ওই মৎস্য ঘোনাটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পাঁয়তারা আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায়, ‘ওয়াজেদ’ নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে মোক্তরের ঘোনাটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার জন্য মহেশখালী ও বদরখালী থেকে দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রায় ১২ জনের একটি ভাড়াটে সন্ত্রাসী দল ইঞ্জিন চালিত বোটযোগে নদীপথে ওই এলাকায় হানা দেয়।
মৎস্য ঘোনা দখলের উদ্দেশ্যে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল কড়িয়ারদী বিছাখালীস্থ বাহিরের ঘোনায় আকস্মিক অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা দিকবিদিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে নেজাম ও শহিদুল ইসলামকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে চক্রের মূল হোতাসহ বাকি ১০-১২ জন সন্ত্রাসী অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
আটককৃতদের তল্লাশি করে ঘটনাস্থল থেকে ২টি দেশীয় এলজি, ১৫টি শটগানের ব্যবহৃত খালি খোসা (কার্তুজ), ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং তাদের ব্যবহৃত ০১টি ইঞ্জিন চালিত বোট জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, ওয়াজেদ নামের এক ব্যক্তির পাঠানো নির্দেশনা ও উসকানিতে তারা এই ঘোনা দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে সেখানে জড়ো হয়েছিল।
এই বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাছান জানান, "অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ঘোনা দখলচেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ২ জনসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং দস্যুতার অপরাধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ‘ওয়াজেদ’ এবং পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।"
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment