রামুতে চাঞ্চল্যকর দুই শিশু হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক, রামু:
কক্সবাজারের রামুতে জনমনে তোলপাড় সৃষ্টিকারী দুই শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘদিনের পলাতক ও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মজিদ ওরফে বদাইয়া (৪৫)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) সকালে রামু থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে আইনের আওতায় আনতে রামু থানার আওতাধীন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম নিরলসভাবে কাজ করছিল। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বড়বিল এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামির পৈতৃক বাড়ি ঘেরাও করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল মজিদ গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বিল এলাকার বাসিন্দা হাজী জাকের আহমদ সওদাগরের ছেলে।
২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি। এদিন বিকেলে রামু উপজেলার বড়বিল এলাকায় খেলাধুলা করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় মামলার বাদী মো. ফোরকান প্রকাশ মিন্টুর দুই শিশুপুত্র—মোহাম্মদ হাসান (১১) এবং মো. হোসেন (৮)। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোনো হদিস না মেলায় থানায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্ত শেষে আদালত সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় আব্দুল মজিদসহ জড়িতদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই আব্দুল মজিদ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দীর্ঘদিন আইনের চোখ ফাঁকি দিলেও শেষ পর্যন্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে রামু থানায় নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এই কুখ্যাত অপরাধী গ্রেফতারের সংবাদ জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি ও চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই গ্রেফতারের ফলে এলাকাবাসী পুলিশের পেশাদারিত্ব ও তৎপরতার প্রশংসা করেছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরণের অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment