পেকুয়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে কুরবানির পশুর হাট। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও অস্থায়ী হাটে দেশীয় গরু-ছাগলের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।
উপজেলার পেকুয়া বাজার, বারবাকিয়া সওদাগর হাট, আরবশাহ বাজার, সবুজ বাজার, বাঘগুজারা বাজার, টইটং বাজার ও কাজি মার্কেটসহ অন্তত ১০টি পশুর হাটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। এছাড়া আরও ৪ থেকে ৫টি স্থানে অস্থায়ী (ভাসমান) পশুর হাট বসেছে।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় খামারিদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও ব্যবসায়ীরা পশু নিয়ে এসেছেন। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গরু ও ছাগলের দাম নিয়ে চলছে দর-কষাকষি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বাজার কিছুটা ক্রেতাবান্ধব বলে মনে করছেন অনেকে।
গরু ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এবার হাটে দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি। ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে গরু দেখছেন। আশা করছি শেষ সময় বিক্রি আরও বাড়বে।
বাঁশখালীর ছনুয়া থেকে গরু কিনতে আসা গিয়াস উদ্দিন বলেন, হাটে অনেক ভালো মানের গরু এসেছে। দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা সহনীয় মনে হচ্ছে। পরিবারের জন্য পছন্দ করে গরু কিনতে এসেছি।
বারবাকিয়া সওদাগর হাটে ছাগল বিক্রি করতে আসা করিমদাদ বলেন, এবার ছাগলের দাম মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছাগল কিনতে আসছে। এক সাথে ৪টি খাসি ছাগল বাজারে তুলেছি। সাড়ে ২১ হাজার টাকায় একটি বিক্রি করে দিয়েছি।
এদিকে, চন্দনাইশ উপজেলার বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষার্থী সাইমন মেহরাজ পিয়ারু এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা দামে একটি গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, গত বছরও কুরবানির জন্য এই হাট থেকে গরু কিনেছি, এ বছরও নিলাম। দাম মোটামুটি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আছে। আমার মতো আরও দুজন গরু কিনতে এসেছে। গত বছরের তুলনায় হাসিলও কম।
পেকুয়া বাজার থেকে একটি গরু কিনেন শামসুল আলম। তিনি বলেন, কুরবানির জন্য ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা মুল্যের গরুটি শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকায় কিনলাম। অনেক দর কষাকষি করেছি। তবে তিনি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, দালালদের জন্য শান্তি নেই। দালাল ছাড়া গরু-ছাগল কেনাও যায়না।
গরু কিনতে আসা কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, এখনও কুরবানির গরু ক্রয় করিনি। বাজার ঘুরেফিরে দেখছি। দাম ও পছন্দমত হলে নিয়ে নিব।
বারবাকিয়া সওদাগর হাটের হাসিল আদায়কারী ইলিয়াস জানান, হাটে এবার পর্যাপ্ত পশু এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে বেচাকেনা করতে পারছেন।
পেকুয়া বাজার পশুর হাটের হাসিল আদায়কারী জিয়াউল হক বলেন, প্রতিদিন হাটে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। ঈদের যত সময় ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনাও তত বাড়বে বলে আশা করছি। পেকুয়া বাজারের পশুর হাটটি সবচেয়ে বড়। প্রচুর গরু- ছাগল বেচাকেনা হচ্ছে। মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি।
স্থানীয়দের মতে, কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা এসব পশুর হাটে উপজেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ী, খামারি ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment