ইরান ইস্যুতে চাপে ট্রাম্প: সামরিক বিজয়ের দাবির আড়ালে চলছে গোপন সমঝোতার চেষ্টা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দমনমূলক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানকে সামরিক চাপে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে অনুমান ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল করেছিল, তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত একটি চেনা রাজনৈতিক কৌশল বেছে নিতে পারেন, যেখানে তিনি একদিকে সামরিক সাফল্য ঘোষণা করবেন এবং অন্যদিকে পর্দার আড়ালে দর-কষাকষি চালিয়ে যাবেন।
বর্তমানে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমাতে চীন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে মধ্যস্থতার পথ খুঁজছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য হতে পারে এই যুদ্ধকে পিছু হটার পরিবর্তে একটি পরিকল্পিত সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা। তবে দেশের ভেতরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে তিনি চাপের মুখে রয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আগ্রাসী নীতি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর বৈশ্বিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে রাজনৈতিক ফলাফল নিশ্চিত করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। চীন যদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য আরও হ্রাস পেতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইসরায়েলকে যুদ্ধ থামানোর জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি নিজের ভাবমূর্তি রক্ষায় একটি সম্মানজনক সমঝোতার চেষ্টা করছে। যদিও নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ ও মার্কিন প্রশাসনের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের মধ্যে টানাপোড়েন বিদ্যমান, তবুও দুই দেশের কৌশলগত নির্ভরশীলতা বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন কৌশল নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। একদিকে সামরিক সাফল্যের দাবি, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে চলছে সমঝোতার চেষ্টা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের সীমাবদ্ধতা এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।
সূত্র: প্রথম আলো
This theme has been developed by OURISLABD.
Post a Comment