Thursday, April 9, 2026

পেকুয়ায় ১২ বছরেও সংস্কার হয়নি সুতাবেপারী পাড়া সড়ক

খোরশেদুল ইসলামঃ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় মডেল কেজি স্কুল-সুতাবেপারী পাড়া সংযোগ সড়কটি দীর্ঘ এক যুগেও সংস্কার না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনগুরুত্বপূর্ণ এ গ্রামীণ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে ইট দিয়ে পাকাকরণ করা প্রায় ১২ ফুট প্রস্থের প্রায় এক কিলোমিটারের সড়কটি এখন সম্পূর্ণ বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইট উঠে গিয়ে সড়কটি কাঁদামাটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে, এমনকি পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মডেল কেজি স্কুল সংলগ্ন এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে সুতাবেপারী পাড়া হয়ে বিস্তৃত এ সড়কটি সুতাবেপারী পাড়া, আন্নরআলী মাতবর পাড়া, সাবেক গুলদি চর পাড়া এবং পার্শ্ববর্তী বারবাকিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম ভরসা। প্রায় পাঁচটি গ্রামের মানুষ উপজেলা পরিষদ, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন।

এছাড়া প্রতিদিন শত শত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে সড়কটির আশপাশে অসংখ্য বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে এবং এলাকাটি আবাসিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান হলেও সড়কটির সংস্কারে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফোরকান বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. রাসেল ও আনোয়ার ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে হেঁটেও যাওয়া যাচ্ছেনা। খানাখন্দে ভরে গেছে। বড় বড় মাটি ভর্তি পিকআপ ও ডাম্পার গাড়ি সড়কটি একেবারে শেষ করে দিয়েছে। বর্ষায় সড়কটি একেবারে অচল হয়ে যাবে। 

শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের শিক্ষার্থী রিয়া বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করি। বৃষ্টির সময় কাদা পানির কারণে হাঁটা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহতও হতে হয়।

অটোরিকশা চালক মানিক বলেন, এই রাস্তায় গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব। এই সড়কে এখন যাত্রী নেই। 

স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।


শেয়ার করুন